রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পানি স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, ফলে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াটে। কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক […]
ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পানি স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, ফলে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াটে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। পানি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়ছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হ্রদে নতুন করে পানি জমছে না। ফলে পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে।
পানি সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় চর জেগে উঠছে এবং নৌপথে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলার বাসিন্দারা নৌযান চলাচলে ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আরও নিচে নেমে যেতে পারে। এতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি হ্রদনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই পানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।