দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের কাছে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবং একজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। জানা গেছে, প্রিটোরিয়ার সমো টাউন এলাকায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারশপে এই দুর্ঘটনা ঘটে। […]
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের কাছে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবং একজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে।
জানা গেছে, প্রিটোরিয়ার সমো টাউন এলাকায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারশপে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সময় সাতজন বাংলাদেশি রাতে দোকানটিতে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী এই প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মো. ফাহিম, আপন আহমেদ, নুর মোহাম্মদ, মো. ফয়সাল ও মো. শাহিন এবং মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারী (৫২)।
এটি নিছক অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা নাকি কোনো নাশকতা—তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনাস্থলটি রাজধানী প্রিটোরিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় আজই সেখানে রওয়ানা হয়েছেন হাইকমিশনার। তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন কাজ শুরু করেছে।
এদিকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর নারায়ণগঞ্জের আলীটেক এবং মুন্সীগঞ্জের কালিন্দিপাড়ায় ভুক্তভোগীদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রায় সাড়ে ১০ বছর ধরে বিদেশে থাকা যুবকদের পাশাপাশি মাত্র আড়াই মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমানো রাজিক বেপারীর মর্মান্তিক বিয়োগে স্বজনদের কান্না থামাতে পারছেন না কেউ।
যে সুপারশপটিতে আগুন লেগেছে, তার মালিক নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ইউপি সদস্য রওশন আলী। তিনি নিজ ওয়ার্ডের নিকটাত্মীয় ও পরিচিতদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক নথিপত্র হাতে আসার পরই লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৮ ও ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন প্রদেশে বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।