জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগামীকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে আগামী ২৮ মার্চ শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে তা ঘোষণা করা হবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত […]
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগামীকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে আগামী ২৮ মার্চ শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে তা ঘোষণা করা হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক কম হলেও জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। যদিও ফলাফলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারা সেই ফল মেনে নিয়েছেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও নিয়ম অনুযায়ী দুটি অধিবেশন ডাকার কথা ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেবল একটি অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংস্কার কমিশনের শপথ নেননি। অথচ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর বাস্তবে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারকে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয় এবং সেই সময়সীমা আগামীকাল শেষ হচ্ছে। তাই অবিলম্বে সরকারকে এই অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সরকারকে এর দায় নিতে হবে এবং তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
তিনি জানান, বৈঠকে ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। এতে আবারও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা তৈরি হচ্ছে কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।