গাজা সিটির পৌর পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) চালানো এ হামলায় নিহতদের মধ্যে এক নারী ও এক শিশুও রয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর নয়জনের মরদেহ এবং আহত ২০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গাজার […]
ছবি: সংগৃহীত
গাজা সিটির পৌর পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) চালানো এ হামলায় নিহতদের মধ্যে এক নারী ও এক শিশুও রয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর নয়জনের মরদেহ এবং আহত ২০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গাজার সিভিল ডিফেন্সও হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পুলিশ সদরদপ্তরে হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের একজন কমান্ডার। ইসরায়েলের দাবি, ওই ব্যক্তি গাজায় দায়িত্ব পালনরত তাদের সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। হামলায় বেসামরিক হতাহত কমাতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে আইডিএফ।
একই দিনে মধ্য গাজার নুসেইরাত এলাকাতেও হামাসের সামরিক শাখার একজন কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর মধ্যেই হামলার ঘটনাটি ঘটল। মাত্র একদিন আগে গাজার একটি ক্যাফেতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৪ জন আহত হওয়ার খবর আসে। ইসরায়েল বলেছিল, হামলার লক্ষ্য ছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত হামাসের কয়েকজন কমান্ডার।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, বুধবারের হামলাগুলোতে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেছেন। তার অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ও শান্তির আহ্বান উপেক্ষা করেই ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে। তবে বৈঠকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরই নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। দুই পক্ষের এই অবস্থানগত পার্থক্যই শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে।
গাজায় হামলা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা ও নিরস্ত্রীকরণ এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে গাজায় স্থায়ী শান্তির পথ এখনো অনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স, এপি ও বিবিসি