Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৭:৪৩ পিএম, ১৮ মে ২০২৬

চীনের হয়ে গোপনে কাজের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়রকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্কাডিয়া শহরের মেয়র আইলিন ওয়াংকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চীনের স্বার্থে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হওয়ার পর বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে প্রভাব বিস্তারে বেইজিংয়ের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে, আর সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো […]

চীনের হয়ে গোপনে কাজের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার মেয়রকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্কাডিয়া শহরের মেয়র আইলিন ওয়াংকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চীনের স্বার্থে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হওয়ার পর বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে প্রভাব বিস্তারে বেইজিংয়ের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে, আর সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

৫৮ বছর বয়সী আইলিন ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চীনের পক্ষে নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওয়াং এবং তার এক সহযোগী স্থানীয় চীনা-আমেরিকান সম্প্রদায়ভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বেইজিংপন্থি প্রচারণা চালিয়েছেন। ওই প্ল্যাটফর্মে এমন কিছু লেখা প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে চীনের বিতর্কিত নীতিগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়।

ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোড়ন তুলেছে আর্কাডিয়া শহরে। চীনা বংশোদ্ভূত বাসিন্দার সংখ্যা বেশি হওয়ায় শহরটিকে অনেকে ‘চাইনিজ বেভারলি হিলস’ বলেও অভিহিত করেন। প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের এই শহরে জনসংখ্যার বড় অংশই চীনা-আমেরিকান সম্প্রদায়ের।

২০২২ সালে সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ওয়াং। পরবর্তীতে কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ রোটেশন পদ্ধতিতে তিনি মেয়রের দায়িত্ব পান। অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

শহর প্রশাসন এক বিবৃতিতে ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করলেও পুরো সম্প্রদায়কে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে কোনো জনগোষ্ঠীকে বিচার করা ঠিক হবে না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে প্রভাব বিস্তারে চীন আরও সক্রিয় হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর নানা কৌশল ব্যবহার করছে বেইজিং।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের লক্ষ্যবস্তু করা তুলনামূলক সহজ। কারণ জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় তাদের নিরাপত্তা নজরদারি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম থাকে। ফলে বিদেশি স্বার্থে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও বেশি তৈরি হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার আগের সময়ের।

মার্কিন আইনে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াং সেই নিয়ম অনুসরণ করেননি। এজন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধের অভিযোগ নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রভাব বিস্তার এবং তথ্যযুদ্ধের বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে আগামী ২৯ মে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে সাবেক মেয়র আইলিন ওয়াংয়ের। মামলার পরবর্তী শুনানিকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ