সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
৬:০৯ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

চীন-আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নতুন অধ্যায় বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান দেশসমূহের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন সংস্করণের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের সময় এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা আসে, যা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। এই নতুন ‘৩.০ সংস্করণ’ চুক্তি মূলত ২০১০ সালে প্রবর্তিত প্রথম চুক্তির […]

চীন-আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নতুন অধ্যায় বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান দেশসমূহের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন সংস্করণের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের সময় এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা আসে, যা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।

এই নতুন ‘৩.০ সংস্করণ’ চুক্তি মূলত ২০১০ সালে প্রবর্তিত প্রথম চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে বৃদ্ধি, সবুজ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়াবে না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন প্রেরণা যোগাবে। বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্যের জটিল পরিস্থিতিতে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, চীন-আসিয়ানের এই শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

২০১৮ সালের পর থেকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্ক যুদ্ধ শুরু হয়, তখন থেকেই চীন ও আসিয়ানের মধ্যে সরবরাহ চেইন আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল অনুসারে, বহু কোম্পানি তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনকে এশিয়ার এই অংশে পুনরায় বিন্যস্ত করেছে। এর ফলে ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে চীন ও আসিয়ানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৫ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়াও, চীনা প্রস্তুত পণ্যের চাহিদা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমশ বাড়ছে, যা স্থানীয় বাজারের বৈচিত্র্য ও ভোক্তা চাহিদার উন্নতির পরিচায়ক। এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দুই অঞ্চলের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ও সুনিশ্চিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলবে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এই চুক্তির প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আশা করছি এই নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর এবং বিস্তৃত করবে, যা ভবিষ্যতে দুই অঞ্চলের জন্য সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।”

এই চুক্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং চীন-আসিয়ান অংশীদারিত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণের জন্য এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সুযোগ ও সামর্থ্যের দ্বার উন্মোচন করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ