যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পক্ষগুলো একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগত এই প্রণালি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পক্ষগুলো একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগত এই প্রণালি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত চুক্তির লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে” এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে অগ্রগতির বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুতই হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে, অন্যথায় ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, তারা কেবল ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হলেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
আলোচনার মূল বিষয় দুটি—হরমুজ প্রণালির নৌপথ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কোনো ধরনের পরিষেবা ফি বা শুল্ক আরোপ করতে পারবে কি না।
ইরান চায়, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করতে এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে সহায়তামূলক সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি আদায়ের সুযোগ রাখতে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অবাধ থাকবে এবং ইরানের অনুমতি বা কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হবে না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় এই নৌপথ অচল থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সময়ে নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল চালু থাকবে এবং কোনো ট্রানজিট ফি আরোপ করা হবে না। একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকটের সমাধান হবে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুতে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন হবে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, এপি, অ্যাক্সিওস।