জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ব্যালটের মাধ্যমেই দেশবাসী সঠিক সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক ফলাফলেও সেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত ফলের জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত ভোট-পরবর্তী […]
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ব্যালটের মাধ্যমেই দেশবাসী সঠিক সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক ফলাফলেও সেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত ফলের জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্টে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত ভোট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, চলমান নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তারা ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তই জানাবেন। প্রাথমিক যে ফলাফল আসছে, তাতে ইতিবাচক আভাস মিলছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না। আরও কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।”
প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ আসনেই তাঁদের জোটের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাত ১১টার মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে। তবে ততক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করাই যুক্তিযুক্ত।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই স্বাধীনতা অবশ্যই দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এমন কোনো স্বাধীনতা কাম্য নয়, যা রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে।
নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে অনেক শঙ্কা ও আতঙ্ক তৈরি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জয় একজনেরই হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে একজনের বিজয়কে সবাই মিলে গ্রহণ করাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাঁর মতে, একজনের জয় মানেই সবার জয়।
নিজ আসনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করবেন।
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব রাজনৈতিক দলকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত সহযোগিতামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে ধারায় ভোট হয়েছে, তাতে যদি বড় ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ না ঘটে, তবে ফলাফল যাই হোক, জামায়াত তা মেনে নেবে।
ঢাকা-১৫ আসনে যুবদলের আহ্বায়কসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাঁদের মুক্তির অনুরোধ জানান।