ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আবারও মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ ভূখণ্ড এবং সেখানকার জনগণের ব্রিটিশ হিসেবে থাকার অধিকার রক্ষায় তাঁর দেশ দৃঢ় থাকবে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণকে ‘অবৈধ দখল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের […]
ছবি: সংগৃহীত
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আবারও মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ ভূখণ্ড এবং সেখানকার জনগণের ব্রিটিশ হিসেবে থাকার অধিকার রক্ষায় তাঁর দেশ দৃঢ় থাকবে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণকে ‘অবৈধ দখল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রসঙ্গ তোলেন বার্নহাম। আইনের শাসন ও জাতিসংঘ সনদ রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের নীতির প্রতি হুমকি বা চ্যালেঞ্জ এলে যুক্তরাজ্য দৃঢ় অবস্থানে থাকবে। রাশিয়ার পাশাপাশি ব্রিটিশ ভূখণ্ডগুলোর ব্রিটিশ হিসেবে থাকার অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করা হলেও একই অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বার্নহামের বক্তব্যের পর জাতিসংঘে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদল তাদের অবস্থান তুলে ধরে। আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ’ নামে উল্লেখ করে এবং দক্ষিণ জর্জিয়া, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক এলাকাগুলোকে নিজেদের জাতীয় ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। দেশটির ভাষ্য, ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ বাহিনী ওই এলাকা থেকে আর্জেন্টিনার তৎকালীন কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে দেয়।
আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ১৮৩৩ সালের ওই ঘটনা তাদের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছিল। দেশটির মতে, দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাদের বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। জাতিসংঘও বিভিন্ন প্রস্তাবে এই সার্বভৌমত্ব-বিরোধের অস্তিত্ব স্বীকার করেছে এবং দুই দেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০৬৫ নম্বর প্রস্তাবসহ পরবর্তী একাধিক প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছে। এসব প্রস্তাবে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনাকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্জেন্টিনা বলেছে, আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এমন কোনো একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা বিরোধপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। উত্তর ফকল্যান্ড অববাহিকায় তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম নিয়ে আর্জেন্টিনা বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনা ইসরায়েলি জ্বালানি কোম্পানি নাভিটাস পেট্রোলিয়াম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে। দেশটির অভিযোগ, ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আর্জেন্টিনার অনুমতি ছাড়া তেল অনুসন্ধানের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
নাভিটাসের নেতৃত্বে পরিচালিত সী লায়ন প্রকল্পটি উত্তর ফকল্যান্ড অববাহিকায় বড় একটি তেল প্রকল্প হিসেবে এগোচ্ছে। প্রকল্পটিতে নাভিটাসের ৬৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক রকহপারের ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে উৎপাদন শুরু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ব্য