সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
৪:২৮ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অচল, বিশ্ব পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে: গুতেরেস

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ছে, একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিভাজনও গভীর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষগুলো চরম সংকটের মধ্যে পড়ছে। সোমবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গুতেরেস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে তাঁর শেষ […]

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অচল, বিশ্ব পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে: গুতেরেস

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ছে, একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিভাজনও গভীর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষগুলো চরম সংকটের মধ্যে পড়ছে।

সোমবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গুতেরেস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে তাঁর শেষ ভাষণ দেওয়ার একদিন আগে এই সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এতে বিশ্বের চলমান বড় সামরিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, যুদ্ধে পরাশক্তি ও নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা একটি গভীর সংকট তৈরি করেছে।

তাঁর ভাষ্য, এর ফলে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে মাঝারি শক্তির দেশগুলোও মনে করছে, তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো পদক্ষেপ নিতে পারে এবং এর জন্য কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে খাদ্য ও জ্বালানিতে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন গুতেরেস। বিশেষ করে খাদ্যের প্রাপ্যতা, জ্বালানির মূল্য এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, কৃষিপণ্য, সার ও জ্বানি রপ্তানিকে ঘিরে কৃষ্ণসাগরকেন্দ্রিক সংকটের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তাঁর মতে, এসব সংকট একত্রে বিশ্বজুড়ে বহু অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

গুতেরেস বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ও জ্বালানির দাম বাড়লেও কোনো পর্যায়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য ব্যয় এবং সারের সংকটের কারণে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের প্রয়োজন

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়া গুতেরেসের বর্তমান মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তাঁর উত্তরসূরি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

গুতেরেসের মতে, একাধিক সংকটে জর্জরিত জাতিসংঘকে বৈশ্বিক অঙ্গনে কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক রাখতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ এখনো মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছে। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মহাসচিব পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা।

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সদস্যের ভেটো থাকা যাবে না।

নিরাপত্তা পরিষদ কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে মহাসচিব নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ