বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে দল ছেড়েছেন তিন নেত্রী—ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও সামান্তা শারমিন। তাঁদের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে জোটের উদ্যোগ দলের ঘোষিত আদর্শ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে দল ছেড়েছেন তিন নেত্রী—ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও সামান্তা শারমিন। তাঁদের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে জোটের উদ্যোগ দলের ঘোষিত আদর্শ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তিন নেত্রীর পদত্যাগ অবশ্য একই সময়ে হয়নি। তাঁদের মধ্যে প্রথমে দল ছাড়েন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত জানান।
দলের ভেতরে পাঠানো ৩০ নেতার একটি চিঠিতে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার বিরোধিতা করা হয়। সেখানে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির মৌলিক সংঘাত রয়েছে।
তাসনিম জারার পদত্যাগের পরদিন, ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ছাড়েন তাজনূভা জাবীন। তিনি অভিযোগ করেন, অবিশ্বাস ও অনাস্থার পরিবেশ তৈরি করে কৌশলে একটি বিশেষ দলের সঙ্গে জোটের পথ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ এনসিপির মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য ও অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবশেষে পদত্যাগ সামান্তা শারমিনের
তিন নেত্রীর মধ্যে সর্বশেষ ৫ নভেম্বর পদত্যাগ করেন এনসিপির প্রথম সারির নেত্রী সামান্তা শারমিন। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতার পাশাপাশি তিনি দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আপত্তি জানান।
সামান্তা শারমিনের মতে, জামায়াতকে সংস্কারের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার কারণে সাধারণ মানুষের একটি অংশ এনসিপির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে জোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরের অসন্তোষের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
জোটের সিদ্ধান্তে দলের ভেতরে মতবিরোধ
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন নেত্রীর আপত্তি ও পদত্যাগের পরও এনসিপির নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ দলটির নেতারা এই নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নেন। নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসনে জয়লাভ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পদত্যাগী নেত্রীদের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তাঁদের আশঙ্কা, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বকীয়তাকে দুর্বল করতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠা দলটির ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও তাঁদের আপত্তি রয়েছে।
তিন নেত্রীর পদত্যাগের ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা এনসিপির ভেতরে শুধু কৌশলগত বিতর্কই তৈরি করেনি, আদর্শিক অবস্থান ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও মতপার্থক্য সামনে এনেছে।