মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার মধ্যে ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ব্রাসেলসে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তা জোরদার এবং জরুরি অর্থায়ন নিশ্চিত করাই তাঁর সফরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলেনস্কি জানান, তিনি ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্মেলনে […]
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার মধ্যে ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ব্রাসেলসে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তা জোরদার এবং জরুরি অর্থায়ন নিশ্চিত করাই তাঁর সফরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলেনস্কি জানান, তিনি ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি লেখেন, ‘ইউরোপে আমরা সবাই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাই। আর তা অর্জনের জন্য জোরালো সংকেতের প্রয়োজন। আর তা হলো—রাশিয়ার ওপর আরও কার্যকর চাপ এবং ইউক্রেনের জন্য আরও প্রতিরক্ষা সহায়তা।’
তিনি আরও বলেন, ‘জীবন রক্ষার জন্য এখন একত্রে কাজ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা না চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি আর মেনে চলবে না ইউক্রেন।
মস্কোর কাছে তেল সরবরাহের জন্য ট্রাম্প একটি চুক্তি করার পর কিয়েভ এর নিন্দা জানায়। পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনার পর রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কিয়েভ।
ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থের জোগান দেওয়া রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা।
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিশাল বলেন, ‘যত দ্রুত রাশিয়ার সব শোধনাগার এবং জ্বালানি বিক্রির সক্ষমতা চূর্ণ-বিচূর্ণ করা যাবে, ততই মঙ্গল।’
নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন বলেন, ইউরোপীয় জোট ইউক্রেনের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইউক্রেনের জনগণকে রক্ষায় দেশটির যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিয়েভের টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ব্রাসেলস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, প্রিয় ইউক্রেনীয় বন্ধুরা এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, আপনারা একা নন।’
ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক মতপার্থক্য বৈঠকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে আরও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চাইবেন এবং ইউক্রেনের জরুরি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরবেন।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, আগামী বছর ইউক্রেন বড় ধরনের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে কিয়েভ সতর্ক করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটিকে অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও তহবিলের ব্যবস্থা করতে হবে।
মের্জ বলেন, ‘ইউক্রেনকে স্থায়ীভাবে সহায়তা করার জন্য আমাদের এখানে তহবিল আবারও বাড়াতে হবে।’
ইতিমধ্যে ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো বা ১০১ বিলিয়ন ডলারের ঋণব্যবস্থা করেছে ইইউ। ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত দেশটির অর্থায়নের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার হামলায় দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অর্থের বাইরেও আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, প্রতিরক্ষা সহায়তা এবং অর্থায়ন—এই তিনটি বিষয় ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।