যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বাতিল করতে হবে। মার্কিন জেলা বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বাতিল করতে হবে।
মার্কিন জেলা বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন এ ধরনের অস্বাভাবিক ও উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের পথ আরও কঠিন করে তুলছিল।
এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করে। আগে যেখানে আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল, সেখানে নতুন এই ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল এবং গবেষণা খাতের আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি করে।
আদালতে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এত উচ্চ ফি শুধু বিদেশি কর্মীদের নিরুৎসাহিতই করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানকেও দক্ষ জনবল নিয়োগ থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বিচারক সোরোকিন বলেন, ফেডারেল প্রশাসন কোনো কর্মসূচির ফি নির্ধারণ করতে পারলেও তা অবশ্যই আইনি সীমার মধ্যে থাকতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কংগ্রেসের অনুমোদনবিহীন এ ধরনের ফি আরোপ প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল হতে পারে।
এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিত্তিক ভিসা কর্মসূচি। প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক এবং প্রযুক্তিকর্মী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ পেশাজীবী এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে কর্মভিত্তিক ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত আরোপ, ফি বৃদ্ধি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা আনার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্মকর্তারা আদালতের রায়কে আইনের শাসনের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মেধাবী কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে আরও উন্মুক্ত রাখতে সহায়তা করবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগে স্বস্তি দেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা এবং আদালতের নজরদারির বিষয়টিকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।