যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের (গ্রিন কার্ডধারী) নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করার আগে থেকে শুরু করে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়ার শেষ ধাপ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত […]
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের (গ্রিন কার্ডধারী) নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করার আগে থেকে শুরু করে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়ার শেষ ধাপ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে আবেদনকারী ইতোমধ্যে অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম হলেও বাবা বা মায়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। যদি সেই সুযোগ না থাকে, তাহলে ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণত বয়স, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নির্দিষ্ট সময় বসবাস, যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির সময়কাল এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে।
যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নাগরিকত্বের আবেদনপত্র ফরম এন-৪০০ পূরণ করতে হবে। অধিকাংশ আবেদনকারী ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আবেদন জমা দিতে পারেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও সংযুক্ত করতে হয়।
এরপর নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ পাঠায়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী তার মামলার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে আঙুলের ছাপ, ছবি অথবা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত অফিসে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়। সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত নাগরিকত্ব পরীক্ষাও নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকার শেষে ইউএসসিআইএস আবেদন অনুমোদন, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া অথবা আবেদন প্রত্যাখ্যান—এই তিন ধরনের যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। প্রথমবার ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগও থাকতে পারে।
আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ (ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স) গ্রহণ করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথের আয়োজন করা হয়, অন্যথায় পরে আলাদা তারিখ জানানো হয়।
শপথ গ্রহণের আগে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করতে হয় এবং সাধারণত তার গ্রিন কার্ড জমা দিতে হয়। শপথ সম্পন্ন হওয়ার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং তাকে ন্যাচারালাইজেশন সনদ প্রদান করা হয়।
ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব অর্জনের পর ভোটাধিকার প্রয়োগ, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্বও পালন করতে হবে।
সংস্থাটি আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছে, নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা উচিত।
সূত্র: ইউএসসিআইএস