স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল হুয়াওয়ে। দুবাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ স্মার্টওয়াচ ‘ওয়াচ জিটি ৬ প্রো’ উন্মোচন করেছে, যা ব্যবহারকারীর শরীরে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। শুধু হৃদস্পন্দন বা হাঁটার গতি মাপার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ঘড়ি আধুনিক সেন্সর ও উন্নত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে রক্তে শর্করার ঝুঁকি […]
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল হুয়াওয়ে। দুবাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ স্মার্টওয়াচ ‘ওয়াচ জিটি ৬ প্রো’ উন্মোচন করেছে, যা ব্যবহারকারীর শরীরে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। শুধু হৃদস্পন্দন বা হাঁটার গতি মাপার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ঘড়ি আধুনিক সেন্সর ও উন্নত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে রক্তে শর্করার ঝুঁকি নির্ণয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। খবর গিজচায়নার।
স্বাস্থ্য প্রযুক্তির বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সুঁই ছাড়া গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণের কার্যকর সমাধান নিয়ে গবেষণা চলছিল। তবে বাস্তব প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য সাফল্য খুব কমই এসেছে। হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টওয়াচে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘড়িটি শরীরের বিভিন্ন জৈব-সংকেত বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দিতে পারে।
এই স্মার্টওয়াচে রক্তে শর্করা নির্ণয়ের জন্য কোনো ধরনের সূচ বা চামড়া ছিদ্র করার প্রয়োজন হয় না। হুয়াওয়ে তাদের নিজস্ব উন্নত ফটোপ্লেথিসমোগ্রাফি (পিপিজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা আলোভিত্তিক সেন্সরের মাধ্যমে শরীরের রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন শনাক্ত করে। সাধারণত এই প্রযুক্তি হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপতে ব্যবহৃত হলেও, নতুন সফটওয়্যার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এটিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়েছে।
ঘড়িটি ব্যবহারকারীর শরীর থেকে প্রাপ্ত পিপিজি সিগন্যালের তথ্য টানা ৩ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। তাৎক্ষণিক কোনো ফলাফল না দেখিয়ে দীর্ঘ সময়ের ডেটা পর্যালোচনা করে শরীরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সে সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। এই পদ্ধতির ফলে শরীরের বিপাকীয় পরিবর্তনগুলো আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
যদিও ঘড়িটি রক্তে শর্করার সুনির্দিষ্ট মাত্রা প্রদর্শন করে না, তবে রক্তপ্রবাহের তরঙ্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিপাকজনিত সমস্যার ধরন নির্ণয় করে। বিশ্লেষণ শেষে ব্যবহারকারীকে তিনটি ধাপে ঝুঁকির মাত্রা জানানো হয়—স্বল্প ঝুঁকি, মাঝারি ঝুঁকি এবং উচ্চ ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা এই রোগে ভুগছেন। ফলে আগাম সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম এমন প্রযুক্তি বহু মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য দুবাই হেলথ ফ্যাসিলিটিজের আওতায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন দুবাইয়ের মোহাম্মদ বিন রশিদ ইউনিভার্সিটির অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ড. মারিয়াম আল সাইদ। পরীক্ষার ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।