সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
২:১৩ অপরাহ্ন, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এল নিনো: জাতিসংঘ

এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। […]

ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এল নিনো: জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কোথাও খরা, আবার কোথাও বন্যার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়তে থাকবে।

জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এল নিনোর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে কাজ করায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি, পানিসম্পদ ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করছে।

বিশ্বের ১৩টি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সমন্বিত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে ডব্লিউএমও।

সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘এল নিনো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে।’

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। সেলেস্তে সাউলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ১৯৫০ সালের পর দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ডের আশঙ্কা

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা পরিমাপের সূচক অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আগস্টে এই অস্বাভাবিকতা বেড়ে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস বলছে, অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিকতা প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এমনটা হলে এল নিনোর শক্তি সাম্প্রতিক দশকগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছাবে।

সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও তাপমাত্রায় তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এল নিনো মূলত মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা যায় এবং একটি পর্ব প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে।

এবারের এল নিনোর প্রভাব এরই মধ্যে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দিতে শুরু করেছে। মধ্য আমেরিকার কিছু এলাকায় তীব্র খরার কারণে গবাদি পশু মারা যাচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সামনে এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে এসব অঞ্চলের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য এলাকাতেও আবহাওয়ার ওপর এর প্রভাব বাড়তে পারে।

সূত্র: ডন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ