সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
২:৪৮ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন

ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একটি চীনা কোম্পানি কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় […]

ঢাকার আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একটি চীনা কোম্পানি কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বর্জ্য ও আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হচ্ছে। সেই বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে।

পাশাপাশি মোংলা বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগ ও সংযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ