দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ সংকটে যখন মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, তখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এ পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বর্তমান সংকটের পেছনে বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের ‘ভুল ও অপরিকল্পিত নীতি’কে দায়ী করেছেন তিনি। ‘মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে’ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) […]
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ সংকটে যখন মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, তখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এ পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে বর্তমান সংকটের পেছনে বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের ‘ভুল ও অপরিকল্পিত নীতি’কে দায়ী করেছেন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো কিছু গোপন করতে চায় না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কোনো লুকোচুরি করতে চাই না। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে। এ জন্য আমি আমার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তবে এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, দীর্ঘ দেড় দশকের ভুল নীতির ফল হিসেবেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।
কিন্তু দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হওয়ার পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ বা কমে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।
পরে মেরামতের কাজ শেষে গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি আবার চালু করা হয়। তবে এর আগের সময়ের সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় পড়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সংকট সামাল দিতে এখন তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, বিগত সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এই অর্থের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর মালিকেরা জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর আশা, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
এ নির্দেশনা মেনে চলতে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।