সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

কমিউনিটি
১:৩৭ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে জাম্বিয়ার পাহাড়ে নৃশংস মৃত্যু সাইফ উদ্দিন মো. রায়হানের শেষ ইচ্ছার বেদনাদায়ক গল্প

সাইফ উদ্দিন মোহাম্মদ রায়হান, মাত্র ২১ বছর বয়সে, জীবনের স্বপ্নপূরণের পথে জাম্বিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মারা গেছেন। তার শেষ ইচ্ছা ছিল ‘পাসপোর্ট আর জুতোজোড়া আব্বুর কাছে পৌঁছে দিও’, কিন্তু সেই ইচ্ছা পূর্ণ হলেও তিনি ফিরে আসতে পারেননি বাবার কাছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে অবৈধ পথে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সময়, যেখানে রায়হানসহ ছয়জন পথিক কালো পাহাড়ি […]

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে জাম্বিয়ার পাহাড়ে নৃশংস মৃত্যু সাইফ উদ্দিন মো. রায়হানের শেষ ইচ্ছার বেদনাদায়ক গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

সাইফ উদ্দিন মোহাম্মদ রায়হান, মাত্র ২১ বছর বয়সে, জীবনের স্বপ্নপূরণের পথে জাম্বিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মারা গেছেন। তার শেষ ইচ্ছা ছিল ‘পাসপোর্ট আর জুতোজোড়া আব্বুর কাছে পৌঁছে দিও’, কিন্তু সেই ইচ্ছা পূর্ণ হলেও তিনি ফিরে আসতে পারেননি বাবার কাছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে অবৈধ পথে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সময়, যেখানে রায়হানসহ ছয়জন পথিক কালো পাহাড়ি জঙ্গলে হাঁটতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন।

ঘটনার পটভূমি ও সময়রেখা

রায়হান চট্টগ্রামের বাঙ্গো নূরের জোরালগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এবং ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ইথিওপিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এরপর সেখান থেকে অবৈধ সড়কপথ ও পায়ে হেঁটে দুরূহ পাহাড়ি এলাকা পার হওয়ার জন্য যাত্রা করেন। স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গদের নির্দেশনায় ছয়জনের দল কঙ্গো সীমান্ত অতিক্রম করে জাম্বিয়ার পাহাড়ি পথে প্রবেশ করে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত

দুর্গম পথ পায়ে হাঁটার কারণে রায়হান ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সঙ্গীরা বলছেন, যখন রায়হান কাঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। অবশেষে তিনি পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুর পর লাশ উদ্ধারের সংকট

রায়হানের সঙ্গীরা জানিয়েছেন, দালালদের কারণে তার লাশ ওই পাহাড়েই পুঁতে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় তার পরিবার গভীর শোকে পড়েছে এবং লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তার পিতা সালাউদ্দিন, যিনি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেজবার্গের থেম্বিসাতে বসবাস করেন, বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি বলেন, “আমি ব্যবসায়ে সহযোগিতা করতে ছেলেকে এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু দালাল চক্রের কারণে আমার ছেলের এমন মৃত্যু হয়েছে, যা কোনো পিতা মেনে নিতে পারে না।”

প্রভাব ও পাঠকের জন্য গুরুত্ব

এ ঘটনা শুধুই একটি ব্যক্তিগত ট্রাজেডি নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের এক গভীর সমস্যা তুলে ধরেছে – তরুণদের অবৈধ অভিবাসন এবং এর সাথে জড়িত দালাল চক্রের নিষ্ঠুরতা। দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অন্যান্য উন্নত দেশে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বিপদজনক অবৈধ পথ বেছে নেয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে।

এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি, যাতে তরুণেরা সঠিক ও নিরাপদ উপায়ে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবৈধ অভিবাসন রোধ করা এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।

উপসংহার

রায়হানের বেদনাদায়ক মৃত্যু আমাদের হৃদয়ে এক গভীর ছাপ ফেলেছে। তার শেষ ইচ্ছার মতো ছোট ছোট জিনিসগুলোই তার জীবনের শেষ মুহূর্তের মানবিক আবেদন প্রকাশ করে। এই ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দেয়, যে স্বপ্ন পূরণের পথে সতর্কতা ও সঠিক পথ বেছে নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ