আষাঢ়ের শেষদিকে মৌসুমি বায়ুর প্রবল প্রভাবে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টানা ভারী বর্ষণ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিনের এই দুর্যোগে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজারে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটিতে ৯৮টি […]
ছবি: সংগৃহীত
আষাঢ়ের শেষদিকে মৌসুমি বায়ুর প্রবল প্রভাবে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টানা ভারী বর্ষণ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত তিন দিনের এই দুর্যোগে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজারে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটিতে ৯৮টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বানের পানিতে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পাহাড়ধস ও বন্যার শঙ্কায় দুর্গত এলাকার লাখো মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে, ২৩৪ মিলিমিটার। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২২৩ মিলিমিটার, চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে ২০২ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১৪৭ মিলিমিটার, কুতুবদিয়ায় ৮৯ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৮৯ মিলিমিটার, টেকনাফে ১৬৯ মিলিমিটার, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ২০৯ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৩৯ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১১৯ মিলিমিটার এবং তেঁতুলিয়া ও ডিমলায় ১১২ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি ছিল। ওই সময়ে চট্টগ্রামের আমবাগান স্টেশনে সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার এবং তেঁতুলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের এই বৃষ্টিপ্রবণ পরিস্থিতি আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতির পেছনে বৈশ্বিক এল নিনো-র প্রভাব রয়েছে। জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হলেও জুলাইয়ের শুরুতেই অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। তার মতে, চলতি বছরজুড়ে এল নিনোর প্রভাব কমবেশি থাকতে পারে। এর ফলে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাও ঘটতে পারে।
টানা বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের বহু বাড়িঘরে পানি ঢুকে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এদিকে উত্তাল সমুদ্রের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।