রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘শহিদি শপথ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে ওসমান হাদির বড় ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি অভিযোগ করেন, ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত […]
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘শহিদি শপথ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে ওসমান হাদির বড় ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি অভিযোগ করেন, ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, ওসমান হাদি শহিদ হওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তিনি সরকারের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুরো চক্রকে জাতির সামনে উপস্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিচার না হলে এর দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, জীবিত অবস্থার চেয়েও শহিদ ওসমান হাদি এখন মানুষের মাঝে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছেন। দেশের কোটি কোটি মানুষ তার বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় সরকারকেও এর দায় নিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ শেষ পর্যন্ত খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করবেই। তাই দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারের দাবিতে ‘শহিদি শপথ’ পাঠ করা হয়। সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথবাক্যে বলা হয়, শহিদ ওসমান হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও শক্তির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে ভয়, লোভ ও আপসের রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শপথে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং শহিদ ওসমান হাদির স্বপ্ন অনুযায়ী ন্যায়ভিত্তিক, সার্বভৌম ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।