যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ভোট দেবেন নিউইয়র্কের ভোটাররা। প্রার্থী নির্বাচনের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির ভোটারদের ব্যালটে থাকবে পাঁচটি প্রস্তাবিত সিটি চার্টার সংশোধনী। এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে নগরীর সরকারি জায়গা ব্যবহারের অনুমতি, সিটি চুক্তি, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প, ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং জরুরি তহবিল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ভোট দেবেন নিউইয়র্কের ভোটাররা। প্রার্থী নির্বাচনের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির ভোটারদের ব্যালটে থাকবে পাঁচটি প্রস্তাবিত সিটি চার্টার সংশোধনী। এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে নগরীর সরকারি জায়গা ব্যবহারের অনুমতি, সিটি চুক্তি, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প, ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং জরুরি তহবিল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম প্রস্তাবে সিটি-মালিকানাধীন জনপরিসর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার কথা রয়েছে। কোনো সম্পত্তির মালিক ফুটপাতে বেঞ্চ, র্যাম্প, গাছের টব বা ফুটপাতের ক্যাফে স্থাপন করতে চাইলে বর্তমানে যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা সংক্ষিপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে অনুমোদনের সময় আট মাস থেকে প্রায় দুই মাসে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে সিটি সরকারের সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদারদের কাগজপত্র ও চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ঠিকাদারদের জন্য প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং কিছু চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সিটি সরকারের ক্রয়নীতি বোর্ডের নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থাও থাকবে।
তৃতীয় প্রস্তাবে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প অনুমোদন, অব্যবহৃত সিটি সম্পত্তি বিক্রি এবং সরকারি কর্মীদের জন্য অফিস ভাড়া নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় ১০ হাজার বর্গফুটের কম আয়তনের কিছু অব্যবহৃত সিটি জমি বিক্রির প্রক্রিয়া দ্রুত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সড়ক প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে অনুমোদন ও পরামর্শের প্রক্রিয়াও পরিবর্তিত হতে পারে।
চতুর্থ প্রস্তাবে ভবন নির্মাণের অনুমতির জন্য একক অনলাইন ব্যবস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ভবন নির্মাণের অনুমতি পেতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রস্তাবটি পাস হলে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন ও অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জলসীমা-সংলগ্ন নির্মাণকাজের অনুমোদনের দায়িত্বও একটি সরকারি বিভাগের কাছ থেকে অন্য বিভাগে স্থানান্তরের প্রস্তাব রয়েছে।
পঞ্চম প্রস্তাবটি নিউইয়র্ক সিটির জরুরি আর্থিক সঞ্চয় বা ‘রেইনি ডে ফান্ড’ নিয়ে। এতে আগের বছরের কর-রাজস্বের অন্তত ১২ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ রিজার্ভে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ আর্থিক প্রয়োজনের ঘোষণা ছাড়া তহবিলের অর্ধেকের বেশি অর্থ তুলে নেওয়ার ওপর সীমা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিটি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট সংশোধনীর পক্ষে এবং ‘না’ ভোট বর্তমান নিয়ম বহাল রাখার পক্ষে গণ্য হবে। ফলে প্রার্থীদের নির্বাচনের পাশাপাশি এই পাঁচটি প্রস্তাবও নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।