সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
১১:৫১ এএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কের মেয়রের বাসভবনে ৪৫ বছর পর ট্রাম্প, মামদানিকে বললেন ‘দারুণ মেয়র’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এসে সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৫ বছর পর কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনে গেলেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে মামদানি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন মামদানি ‘দারুণ মেয়র’ হবেন। মামদানি ও ট্রাম্পের […]

নিউইয়র্কের মেয়রের বাসভবনে ৪৫ বছর পর ট্রাম্প, মামদানিকে বললেন ‘দারুণ মেয়র’

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এসে সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৫ বছর পর কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনে গেলেন। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে মামদানি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন মামদানি ‘দারুণ মেয়র’ হবেন।

মামদানি ও ট্রাম্পের মধ্যে এর আগেও দুই দফা সরাসরি বৈঠক হয়েছে। তবে সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে তাঁদের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। বৈঠকে আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও নগরীর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনা

বৈঠক শেষে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উপায় নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে নতুন আবাসন নির্মাণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

মামদানি বলেন, তাঁর সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্কবাসীর জন্য কাজ করতে পারেন এমন যে কারও সঙ্গে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি শহরের আবাসন সংকট ও সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ট্রাম্পও সানিসাইড ইয়ার্ডের উন্নয়ন নিয়ে আগ্রহ দেখান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফেডারেল অনুমোদন ও সম্ভাব্য সরকারি অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

অভিবাসন ও হাইতিয়ানদের বিষয়ও আলোচনায়

বৈঠকে নিউইয়র্কে বসবাসকারী অভিবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন মামদানি। বিশেষ করে হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের মানুষের অবস্থান ও শহরের অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।

মামদানি বলেন, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এসব বিষয় নিয়ে তাঁরা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বৈঠকের আলোচনায় নগরীর অভিবাসন পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও কথা

মামদানি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নিজের অবস্থান ট্রাম্পকে জানান। হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে সাম্প্রতিক বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে তিনি সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে চান।

বৈঠকের পর ট্রাম্প ও মামদানি সাংবাদিকদের সামনে একসঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্প এ সময় গ্রেসি ম্যানশনের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন এবং ভবনটিকে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্পের প্রশংসা

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, মামদানির মধ্যে ‘দারুণ সম্ভাবনা’ রয়েছে। নিউইয়র্কের জন্য ভালো কিছু করতে তিনি মামদানির সঙ্গে কাজ করতে চান বলেও জানান।

ট্রাম্প বলেন, “আমি অবশ্যই আশা করি, তিনি একজন দারুণ মেয়র হবেন।” একই সঙ্গে নিউইয়র্কের জন্য ভালো কিছু চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে তাঁর আগের বক্তব্যের তুলনায় ভিন্ন সুর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। তবে সোমবারের বৈঠকে দুই নেতা মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

১৯৮১ সালের পর প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট

গ্রেসি ম্যানশন নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন। ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে মেয়র এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এরপর ৪৫ বছর ধরে কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেখানে যাননি।

সোমবারের বৈঠকটি তাই দুই নেতার রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক নগর প্রশাসন ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে ভবিষ্যৎ যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সাক্ষাৎ হিসেবে সামনে এসেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ