সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৫:০৩ অপরাহ্ন, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযান অব্যাহত, স্যাংচুয়ারি নীতি নিয়ে মামদানির সমালোচনা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার মধ্যেও অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। সংস্থাটির নিউইয়র্ক কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শহর কর্তৃপক্ষের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার নীতির কারণে স্থানীয় কারাগার থেকে অভিযুক্ত অপরাধীদের হস্তান্তর করা হচ্ছে না। ফলে আইসিই এজেন্টদের রাস্তায় নেমে অভিযান চালাতে হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স […]

নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযান অব্যাহত, স্যাংচুয়ারি নীতি নিয়ে মামদানির সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার মধ্যেও অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। সংস্থাটির নিউইয়র্ক কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শহর কর্তৃপক্ষের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার নীতির কারণে স্থানীয় কারাগার থেকে অভিযুক্ত অপরাধীদের হস্তান্তর করা হচ্ছে না। ফলে আইসিই এজেন্টদের রাস্তায় নেমে অভিযান চালাতে হচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের একটি দল আইসিই এজেন্টদের সঙ্গে ছদ্মবেশে ব্রুকলিনে অভিযান পর্যবেক্ষণ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় নজরদারির পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছেন এজেন্টরা।

অভিযানের মধ্যে আইসিইর নিউইয়র্ক সিটির এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনসের (ইআরও) প্রধান কেন জেনালো মেয়র জোহরান মামদানি, গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও সিটি কাউন্সিলের নীতির সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব নীতি দাগি অপরাধীদের রাস্তায় চলাফেরার সুযোগ করে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকিতে ফেলছে।

জেনালো বলেন, ‘এর শতভাগই কেবল রাজনীতি, জননিরাপত্তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’ তাঁর দাবি, স্যাংচুয়ারি নীতির কারণে স্থানীয় কারাগারগুলো দাগি অপরাধীদের আইসিইর হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে এজেন্টদের রাস্তায় নেমে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে হচ্ছে।

এর আগে মেয়র মামদানি স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কবাসীকে আইসিই এজেন্টদের এড়িয়ে চলার বা তাঁদের মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটির সঙ্গে শহরের ডেমোক্র্যাট নেতাদের আইনি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ফক্স নিউজের উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রুকলিন থেকে দুই অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে আইসিই। তাঁদের একজন ৪০ বছর বয়সী জর্জিয়ার নাগরিক নিকা তকেশেলাশভিলি। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ নজরদারির পর কোনো ধরনের ধস্তাধস্তি ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করেন এজেন্টরা।

অন্যজন হাইতির নাগরিক ৪৫ বছর বয়সী ইভস ফ্রান্টজ অগাস্টিন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে হামলা, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগ ছিল। তাঁকে আটকের সময় তিনি বাধা দেন এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রায় চার মিনিটের ধস্তাধস্তির পর তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তোলেন আইসিই এজেন্টরা।

জেনালো বলেন, নিউইয়র্কে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে কখনো কখনো সাধারণ মানুষও বিক্ষোভ করে আইসিইর কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আইসিইর ভালো সমন্বয় ছিল। তবে সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর সময়ে সেই সহযোগিতায় ভাটা পড়ে।

পরবর্তী সময়ে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও সিটি কাউন্সিলের কারণে তা সফল হয়নি বলে দাবি করেন জেনালো। বর্তমান মেয়র মামদানি সরাসরি আইসিই বাতিলের দাবি তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্যাংচুয়ারি নীতির বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেনালো। রাজনৈতিক বাধা থাকলেও নিউইয়র্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইসিই অভিযান চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: আমেরিকা বাংলা

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ