দি বাংলা ভয়েস : নিউইয়র্কে আলোচনা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘ ৭১ এর চেতনা হারিয়ে যেতে দেব না ’স্লোগান নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদ । প্রদীপ প্রজ্জ্বলন,জাতীয় ও দলীয় […]
দি বাংলা ভয়েস : নিউইয়র্কে আলোচনা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

‘ ৭১ এর চেতনা হারিয়ে যেতে দেব না ’স্লোগান নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদ ।


প্রদীপ প্রজ্জ্বলন,জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশনা, প্রয়াতদের স্মরণে নিরবতা পালন,শোক প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।
মঞ্চে আসন গ্রহন করেন সংগঠনের সভাপতি ক্লারা রোজারিও, উদীচীর প্রাক্তণ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস,বিশিষ্ট্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সউদ চৌধুরী ও সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাস।
শোক প্রস্তাব পাঠ করেন লিলি মজুমদার । উদীচীর লড়াই–সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন প্রগ্রেসিভ ফোরামের প্রাক্তণ সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম ,সংগঠনের সহ-সভাপতি বাবুল আচার্য্য, উদীচী ব্রঙ্কস শাখার তাহরিমা নাসরিন ,সাংস্কৃতিক কর্মী সনজীবন কুমার , লিয়াকত এলাহী, মহিলা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল ,উদীচীর প্রাক্তণ সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দীন, প্রগ্রেসিভ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু , উদীচী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায়, ডা.এম আজিজ ,একুশের চেতনা পরিষদের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুন প্রমুখ।

আলোচনায় উদীচী প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সংগঠনের দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।
বক্তরা বলেন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বাঙালি সংস্কৃতির একটি অনির্বাণ বাতিঘর। বিত্তবৈভবের চেয়ে যে মানুষ বড়, সেই বোধ তৈরি করে গিয়েছিলেন সত্যেন সেনের মতো মানুষেরা। তাই তাঁরা শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ মানুষের কথা বলার জন্য তৈরি করেছিলেন উদীচীর মতো সংগঠন।

বক্তারা আরও বলেন,উদীচী একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। উদীচীর আদর্শ মুক্তিযুদ্ধে পাওয়া বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চার নীতি।
উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে বিপ্লবী, কথাশিল্পী সত্যেন সেনের হাত ধরে শুরু হয় এ দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর পথচলা। রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সার, কামাল লোহানীসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ যুক্ত হয়েছেন উদীচীর বিভিন্ন পর্বে। মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণের জন্য সংগ্রাম করে আসছে উদীচী।
শেষে উদীচী জ্যামাইকা শাখার শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করে।