যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ, শেরিফ বা ফেডারেল এজেন্ট পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সবার প্রতি জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা কখনো ফোনে নিজেদের পুলিশ, প্রসিকিউটর বা সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ, শেরিফ বা ফেডারেল এজেন্ট পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সবার প্রতি জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা কখনো ফোনে নিজেদের পুলিশ, প্রসিকিউটর বা সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। আবার কোথাও কোথাও পুলিশের মতো লাল-নীল বাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার করে চালকদের থামানোরও চেষ্টা করছে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারকেরা প্রথমে ভুক্তভোগীকে জানায় যে তিনি কোনো তদন্তে জড়িত বা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এরপর মামলার ঝামেলা এড়াতে বা গ্রেপ্তার ঠেকাতে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
এফবিআই আটলান্টার ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ পিটার এলিস বলেন, প্রতারকেরা মানুষের ভয় ও উদ্বেগকে কাজে লাগিয়েই এসব অপরাধ করছে।
ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ফোন করে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করবেন না।
বিশেষ করে কেউ যদি পুলিশ পরিচয়ে গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ওয়্যার ট্রান্সফার, জেল, ক্যাশ অ্যাপ, ভেনমো বা অন্য কোনো ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বলেন, তাহলে সেটি প্রতারণা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতারকেরা এখন কলার আইডি স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনের পর্দায় প্রকৃত পুলিশ বিভাগ বা সরকারি সংস্থার নম্বর দেখাতে সক্ষম। এমনকি তারা আসল কর্মকর্তার নাম বা ব্যাজ নম্বরও ব্যবহার করতে পারে।
এ ধরনের ফোন পেলে আতঙ্কিত না হয়ে কল কেটে দিন। এরপর সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ বা সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল নম্বর নিজে সংগ্রহ করে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে এফবিআই।
পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা শুধু ফোনেই সীমাবদ্ধ নয়।
সম্প্রতি ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকায় পুলিশের লাল-নীল জরুরি বাতি লাগানো একটি কালো এসইউভি একটি গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করে। পরে জানা যায়, সেটি প্রকৃত পুলিশের গাড়ি ছিল না।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর তার গাড়ি থেকে অবৈধ জরুরি লাইট, অতিরিক্ত লাইট বার এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করলে তা জনগণের আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হানে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী—
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিদেশ ভ্রমণের সময়ও পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফিলিপ ফারিনা বলেন, অনেক প্রতারক পাসপোর্ট পরীক্ষা, জাল মুদ্রা তদন্ত বা নিরাপত্তা তল্লাশির অজুহাতে পর্যটকদের অর্থ ও মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র, নাম ও ব্যাজ নম্বর দেখতে চাইতে পারেন এবং সুযোগ থাকলে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের মাধ্যমে তা যাচাই করতে পারেন।
কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—