নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের শরতের পাতার রঙ বদলের মৌসুম। নিউইয়র্কের আপস্টেট এলাকায় ইতোমধ্যে গাছের পাতায় রঙের প্রথম আভা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাডিরনড্যাকস অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনে রঙের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে আই লাভ নিউইয়র্কের (I LOVE NY) সর্বশেষ ফল ফলিয়েজ রিপোর্ট। ত্রি-স্টেট অঞ্চলে সাধারণত অক্টোবর মাসেই শরতের […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের শরতের পাতার রঙ বদলের মৌসুম। নিউইয়র্কের আপস্টেট এলাকায় ইতোমধ্যে গাছের পাতায় রঙের প্রথম আভা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাডিরনড্যাকস অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনে রঙের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে আই লাভ নিউইয়র্কের (I LOVE NY) সর্বশেষ ফল ফলিয়েজ রিপোর্ট।
ত্রি-স্টেট অঞ্চলে সাধারণত অক্টোবর মাসেই শরতের পাতার রঙ সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। লাল, কমলা ও হলুদে বদলে যাওয়া গাছপালা দেখতে এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন পার্ক, পাহাড়ি এলাকা ও দর্শনীয় স্থানে ছুটে যান।
২২ সেপ্টেম্বর শরৎ বিষুবের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শরৎ ঋতু শুরু হচ্ছে। নিউইয়র্কে পাতার রঙের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে I LOVE NY। ২০২৬ সালের প্রথম প্রতিবেদনে আপস্টেট নিউইয়র্কে শরতের রঙের মৌসুম শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে এবং অ্যাডিরনড্যাকস অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের উত্তরাঞ্চল ও আপস্টেট এলাকায় শরতের রঙ তুলনামূলকভাবে আগে শুরু হয়। অ্যাডিরনড্যাকস অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই রঙের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে শরতের রঙ।
কানেকটিকাটে শরতের পাতার মৌসুম সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলে। অঙ্গরাজ্যের পরিবেশ ও জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে সেখানে সর্বোচ্চ রঙের সময় অক্টোবরের ৩ তারিখ থেকে নভেম্বরের ৮ তারিখের মধ্যে হতে পারে। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে এই সময় কয়েক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।
নিউ জার্সিতে বড় ধরনের রঙ পরিবর্তন সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়। অক্টোবরজুড়ে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন পার্ক ও প্রাকৃতিক এলাকায় শরতের রঙ উপভোগের সুযোগ থাকে।
আগেভাগে শরতের রঙ দেখতে চাইলে নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকাতেও যাওয়া যেতে পারে। অঞ্চলটির উত্তর ও উঁচু এলাকাগুলোতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই পাতার রঙ স্পষ্ট হতে শুরু করে।
গ্রীষ্মে পাতার সবুজ রঙের জন্য দায়ী ক্লোরোফিল সূর্যের আলো ব্যবহার করে গাছকে খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। শরতে দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাছ ক্লোরোফিল তৈরি কমিয়ে দেয়। ফলে সবুজ রঙ ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গিয়ে পাতার ভেতরে থাকা হলুদ ও কমলা রঙের পিগমেন্ট দৃশ্যমান হয়।
লাল রঙ তৈরির প্রক্রিয়াও শরতের পরিবেশ ও গাছের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও দিনের আলোর পরিবর্তন পাতার রঙ কত দ্রুত বদলাবে এবং কত দিন তা স্থায়ী হবে, তার ওপরও প্রভাব ফেলে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের হোয়াইট মাউন্টেনও শরতের পাতার রঙ দেখার জন্য পরিচিত। অক্টোবর মাসে সেখানে পাহাড়ি বনভূমি লাল, কমলা ও হলুদ রঙে বদলে যায়। তবে খুব তাড়াতাড়ি গেলে অনেক এলাকায় রঙ পুরোপুরি ফুটে নাও উঠতে পারে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় সেখানে ভ্রমণের জন্য ভালো সময় হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য শরতের রঙের সময় জানতে স্মোকি মাউন্টেনসের ফল ফলিয়েজ পূর্বাভাস মানচিত্রও ব্যবহার করা যায়। এই মানচিত্রে বিভিন্ন এলাকার পাতার রঙের পরিবর্তন ও সম্ভাব্য পিক সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
শরতের রঙ দেখতে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ ফল ফলিয়েজ রিপোর্ট ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া ভালো। কারণ তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে পাতার রঙ বদলের সময় প্রতিবছর কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।