নিউইয়র্কে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইস (ICE)-এর সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশের পরও ১২টি সংস্থার মধ্যে সাতটি এখনো আইসের সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সম্মতি জানায়নি। গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আইসের বেসামরিক […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইস (ICE)-এর সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশের পরও ১২টি সংস্থার মধ্যে সাতটি এখনো আইসের সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সম্মতি জানায়নি।
গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আইসের বেসামরিক অভিবাসন কার্যক্রমে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ বন্ধ করতে এসব চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও সাতটি সংস্থা এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
এই তালিকায় রয়েছে লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও পুলিশ বিভাগ। রাজ্য সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা চুক্তি বাতিল করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হোকুল ও জেমস বলেছেন, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ঠেকাতে নতুন আইন করা হয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা ২৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে আইসের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিল না করলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো আইনি পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গভর্নর হোকুল।
মূলত ২৮৭(জি) চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় ও সিটি পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা আইসের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব দায়িত্বের মধ্যে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমের সময় অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক অভিবাসন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার মতো বিষয় রয়েছে।
নিউইয়র্কে নতুন রাজ্য নীতির লক্ষ্যই হলো স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার এই ধরনের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা বন্ধ করা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় পুলিশের মূল দায়িত্ব যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাতেই থাকে।
নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্লেকম্যান আগে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, আইসের সঙ্গে সহযোগিতা কমিয়ে দিলে স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিল হলে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল, গির্জা ও স্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিবাসীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে তারা দাবি করছেন।
এদিকে নিউইয়র্কের উদ্যোগ নিয়ে ফেডারেল পর্যায়েও আইনি বিরোধ চলছে। আদালতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে রাজ্যের ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিলের ক্ষমতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—২৬ আগস্টের আগে বাকি সাতটি সংস্থা রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে আইসের সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করে কি না। তাদের সিদ্ধান্ত নিউইয়র্কে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।