কায়রোর নীলনদের তীরে, ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস মাদীনাতুল বুঊস এ ছড়িয়ে পড়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কায়রো মিসরের উদ্যোগে আয়োজিত হলো মহিমান্বিত কনফারেন্স ২০২৫। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাদ যোহর, নবীপ্রেমে উজ্জ্বল এ সমাবেশে মিলিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ নানা দেশের শিক্ষার্থীরা। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত […]
কায়রোর নীলনদের তীরে, ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস মাদীনাতুল বুঊস এ ছড়িয়ে পড়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কায়রো মিসরের উদ্যোগে আয়োজিত হলো মহিমান্বিত কনফারেন্স ২০২৫।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাদ যোহর, নবীপ্রেমে উজ্জ্বল এ সমাবেশে মিলিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতসহ নানা দেশের শিক্ষার্থীরা।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মিশর শাখার সহ-সভাপতি আম্মার হোসাইন মিমন। বিশেষ অতিথির আসন আলোকিত করেছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইত্তেহাদ-এর সাবেক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন আজহারী, আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইত্তেহাদের বর্তমান সভাপতি মোঃ ফখরুল ইসলাম আজহারী
অনুষ্ঠান সূচিত হয় মনোমুগ্ধকর কোরআন তেলাওয়াত ও হামদ-নাত পরিবেশনার মাধ্যমে। ধীরে ধীরে পুরো পরিবেশ ভরে ওঠে রাসূলুল্লাহ সা. এর স্মৃতি, শিক্ষা ও প্রেমের আলোয়। আলোচনা পর্বে অংশ নেন বিশ্ববরেণ্য আলেমগণ— আল-আজহার শরীফের খতিব ও ইমামুল মুফাসসিরিন ফাদিলাতুশ শায়খ ড. আবদুল ফাত্তাহ আল-আওয়ারি (হাফিযাহুল্লাহ), ড. আয়মান আল-হাজ্জার (হাফিযাহুল্লাহ), ড. খালেদ শাকের আত্তিয়া সুলেইমান (হাফিযাহুল্লাহ) এবং ড. মুহাম্মদ আ’সেম সাঈদ (হাফিযাহুল্লাহ)। তাঁদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় নবীজির সা. জীবনদর্শনের গভীরতা, সুন্নাহ অনুসরণের অপরিহার্যতা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বার্তা।
সম্মেলনের প্রাণস্পন্দন হয়ে ওঠে প্রশ্নোত্তর পর্ব। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানতে চান— ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন শরীয়তে কোন মর্যাদা বহন করে এবং এখানে “ঈদ” শব্দ ব্যবহার করা বৈধ কি না। উত্তরে আলেমরা বলেন, নবীজির জন্মোৎসব পালন করা শুধু মুস্তাহাব নয়, বরং ওয়াজিবের মর্যাদা বহন করে। আর এই আনন্দঘন দিনে “ঈদ” শব্দ ব্যবহারে কোনো আপত্তি নেই, বরং এটি মুসলিম হৃদয়ের উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতার যথার্থ প্রতিফলন। যারা এ নিয়ে আপত্তি তোলে, তারা আসলে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্মার্থ অনুধাবনে ব্যর্থ।
অনুষ্ঠানে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আবেগঘন সেই মুহূর্তে কনফারেন্স হল করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাপনী বক্তৃতায় সভাপতি আম্মার হোসাইন মিমন এক বছরের কর্মকাণ্ডের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।
সবশেষে, দোয়ার মর্মস্পর্শী সুরে পরিসমাপ্তি ঘটে এই আধ্যাত্মিক মহাসম্মেলনের। দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববরেণ্য আলেম ড. আবদুল ফাত্তাহ আল-আওয়ারি (হাফিযাহুল্লাহ)।
কায়রোর এই বিকেলটি প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু একটি অনুষ্ঠান না বরং হয়ে উঠেছে ভ্রাতৃত্বের উৎসব, নবীপ্রেমের অঙ্গীকার এবং উম্মাহর ঐক্যের এক অনন্য বার্তা।