বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চান তিনি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সবাই মিলে সরকার পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। সাক্ষাৎকারে […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চান তিনি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সবাই মিলে সরকার পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। সাক্ষাৎকারে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সম্ভাব্য সরকার গঠন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর মূলধারার রাজনীতিতে ফেরার পথে থাকা জামায়াতে ইসলামী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের শক্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা দেখাতে প্রস্তুত। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনে অংশ নিতে আগ্রহী দলটি ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনাও করেছে বলে জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ চাই। যদি দলগুলো একসঙ্গে আসে, তাহলে আমরা সবাই মিলে সরকার চালাব।”
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনে যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, সেই দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। জামায়াত সর্বোচ্চ আসন পেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত দলই নেবে বলে জানান তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জনমত জরিপ অনুযায়ী প্রায় ১৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে দলটি আবারও মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় ছিল জামায়াত।
আঞ্চলিক রাজনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পর তার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক। তার মতে, এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ভারত দীর্ঘদিন শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল।
ভারত যখন সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকারী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, সে বিষয়ে জামায়াত আমির জানান, চলতি বছর তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে ওই কূটনীতিক বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে থাকতে চায় না। বরং সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “আমাদের সবাইকে সবার প্রতি খোলা মনোভাব রাখতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।”