ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটনের হত্যার পেছনে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সঙ্গে গরুর হাট নিয়ে বিরোধ ছিল বলে দাবি করেছে টিটনের পরিবার। এ ঘটনায় পরিবার নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে টিটনের […]
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটনের হত্যার পেছনে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সঙ্গে গরুর হাট নিয়ে বিরোধ ছিল বলে দাবি করেছে টিটনের পরিবার। এ ঘটনায় পরিবার নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে টিটনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার বিষয়টি সামনে আসে।
নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, টিটন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বুধবার সকালে অজ্ঞাতনামা আট থেকে নয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
টিটনের ভাই রিপন সাংবাদিকদের বলেন, হত্যার কয়েক দিন আগে টিটন তাকে বছিলার গরুর হাট নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই টিটনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, টিটনের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তবে ইমনের সঙ্গে টিটনের ব্যক্তিগত কোনো এমন বিরোধ ছিল বলে তিনি জানেন না, যা হত্যাকাণ্ডের মতো বড় ঘটনায় গড়াতে পারে। রিপনের ভাষায়, পরিবারের ভাইবোনের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় থাকতে পারে, কিন্তু সেসবকে তিনি খুনের মতো বিরোধ বলে মনে করেন না।
মামলার এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান তার ছোট ভাই টিটন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কথোপকথনে টিটন পরিবারকে বলতেন, অতীতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতি করেছেন, কিন্তু এখন নিজেকে শুধরে নিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চান।
এজাহারে বলা হয়, কিছুদিন আগে টিটন আবারও ওই অ্যাপের মাধ্যমে জানান যে তিনি একটি শিডিউল কিনেছেন এবং কিছু একটা কাজের মধ্যে থাকতে পারবেন। পরে ২৬ এপ্রিল ফোন করে তিনি জানান, বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ডাগারি রনিসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে।
পরদিন ২৭ এপ্রিল টিটন জানান, তাকে উভয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য ডাকা হয়েছে। কিন্তু ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিভিন্নজনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ঢাকা নিউমার্কেট এলাকার শাহনেওয়াজ হলের সামনে থেকে টিটনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন টিটন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খুব কাছ থেকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলি করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং এর পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভেতরের বিরোধ জড়িত থাকতে পারে। তবে পরিবারের অভিযোগ, গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারার শিডিউল ঘিরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।