ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের হাতে আটক হওয়া শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিককে অবশেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তারা ভারতে ফিরে যান। ফেরত যাওয়া চারজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের হাতে আটক হওয়া শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিককে অবশেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তারা ভারতে ফিরে যান।
ফেরত যাওয়া চারজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের বাসিন্দা সুইটি বিবি, তার দুই ছেলে কুরবান শেখ ও ইমাম দেওয়ান এবং দানিশ শেখ।
পুলিশ ও ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও গত বছর বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে মোট ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইন করে। পরে ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকা থেকে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবিসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে আদালতের নির্দেশনা এবং মানবিক বিবেচনায় গত বছরের ৫ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে দায়ের হওয়া মামলার বিচারাধীন থাকার কারণে বাকি চারজনের প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হয়। মামলা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে তাদেরও নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে চার ভারতীয় নাগরিককে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রত্যাবাসনের সময় সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর বাংলাদেশে অবস্থানের পর অবশেষে চার ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন। সীমান্তে পুশইনের মতো সংবেদনশীল ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে মানবিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকেও আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।