অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর একটি ঐতিহাসিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ। সংস্থাটির সূত্র অনুযায়ী, অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান এবং অর্ধশতাধিক সশস্ত্র ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকস্মিকভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। এর […]
ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর একটি ঐতিহাসিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ।
সংস্থাটির সূত্র অনুযায়ী, অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান এবং অর্ধশতাধিক সশস্ত্র ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকস্মিকভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএ এখন আমাদের দখলে।’
কালান্দিয়ার এই স্থাপনাটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ইউএনআরডব্লিউএর প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে পুরোনো কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি জাতিসংঘের সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা বহন করে। নিজেদের স্থাপনায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রবেশের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ।
পশ্চিম তীরে ইউএনআরডব্লিউএর পরিচালক রোল্যান্ড ফ্রিডরিখ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘মারাত্মক ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের সব স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, জাতিসংঘের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই অভিযান ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত আগ্রাসনের অংশ। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতিও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলের এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমকে ঘিরে ইসরায়েলের পদক্ষেপ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ইসরায়েল ও পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইন পাস করে দেশটির সরকার। ওই আইনের পর গত জানুয়ারিতে পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়টি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য সংস্থাটির ভূমিকা এবং তাদের সহায়তা কার্যক্রমকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে ইউএনআরডব্লিউএ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক সেবা দিয়ে আসছে।
গাজা উপত্যকায় হামাসের প্রভাব থাকলেও পশ্চিম তীর পরিচালিত হচ্ছে ফাতাহ তথা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। ফলে পশ্চিম তীরেও ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিয়ে ইসরায়েলি পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সর্বশেষ অভিযানের পর জাতিসংঘের স্থাপনার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এসব স্থাপনার সুরক্ষা এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।