ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে বনাঞ্চল পেরিয়ে আগুন এখন জনবসতিপূর্ণ এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশেই ব্যাপক সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চলছে। শনিবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের বোর্দো ও আটলান্টিক উপকূলসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় […]
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে বনাঞ্চল পেরিয়ে আগুন এখন জনবসতিপূর্ণ এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশেই ব্যাপক সরিয়ে নেওয়ার অভিযান চলছে।
শনিবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের বোর্দো ও আটলান্টিক উপকূলসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি শহর থেকেও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের জীবন রক্ষা করা। আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ মিলিয়ে ইতোমধ্যে দুই লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু ফ্রান্সের ক্যাপ ফেরাত উপত্যকা থেকেই প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে দাবানলে দেশটিতে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে শুধু জিরোন্ড অঞ্চলেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর বন ও ভূমি।
স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে। জরুরি সেবাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে বিমান, হেলিকপ্টার এবং শত শত দমকলকর্মী মোতায়েন করেছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা দাবানল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট হবে না। আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসের গতিপ্রকৃতির ওপর পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দাবানলের ঝুঁকি এবং আগুনের বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
ফ্রান্স ও স্পেনের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে।