এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই নির্বাচনে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই নির্বাচন ঘিরে ভারতের গভীর আগ্রহ ও […]
এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই নির্বাচনে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
এই নির্বাচন ঘিরে ভারতের গভীর আগ্রহ ও কৌশলগত নজরদারি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ—এই তিনটি প্রধান কারণে বাংলাদেশের নির্বাচন ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থিতিশীলতা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সীমান্তসংলগ্ন। গত দেড় দশকে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা ছিল, বিশেষ করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দমনে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা থাকবে কি না, তা নিয়ে নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চীনের প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা করছে ভারত। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা, পাকিস্তানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাবনা ভারতের কৌশলগত চিন্তাকে আরও জোরালো করেছে। বঙ্গোপসাগরে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে দিল্লি।
কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট সুবিধা
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা ভারতের বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখছে। নতুন সরকার এলে এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে ভারত।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ বাড়ায় ভারতীয় সরকারও চাপে রয়েছে। তাই তারা এমন সরকার চায়, যারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
কূটনৈতিক ‘রিসেট’ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক
দীর্ঘদিন বিএনপিকে সন্দেহের চোখে দেখলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত চিঠি পাঠানো ইঙ্গিত দেয়, ভারত এখন বাংলাদেশের সব বড় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের এই নির্বাচন শুধু একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়—বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেই ভারতের এত গভীর আগ্রহ।