সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

রাজনীতি
৫:৩৩ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈতিকতা ও ধর্মশিক্ষার নতুন ধারণা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সেমিনারে এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ পদ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পদ […]

বিএনপির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈতিকতা ও ধর্মশিক্ষার নতুন ধারণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সেমিনারে এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ পদ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পদ বরাদ্দের মাধ্যমে সমতা বজায় রাখা হবে, যা পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

গত শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা জানান তিনি। সেমিনার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং ধর্মবিরোধী নীতিমালা বাতিলের দাবি তুলে ধরা।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের অভাবে জাতির নৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। তাই নৈতিকতা, ধর্ম ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে জাতি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে।”

সেমিনারে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি। ধর্মীয় শিক্ষা তাদের মেধার মূল শক্তি।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম জানান, “অবিলম্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন। না হলে সকল ধর্মীয় দল সম্মিলিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আমাদের আন্দোলন শুরু না করলেও, প্রয়োজন হলে ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি, অবিলম্বে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে।”

সেমিনারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বেফাকুল মাদারিসের মহাসচিব মাহফুজুল হক এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার গুরুত্ব ব্যাপকভাবে আলোচনা হতে শুরু করেছে। ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশে সহায়ক হবে না, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতির ঐক্যবদ্ধতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে এ ধরনের পদ সৃষ্টির সময় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শিক্ষার আধুনিকতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী ও সমন্বিত শিক্ষা পায়।

দেশের বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় এ পদ সৃষ্টির উদ্যোগ সামাজিক শান্তি ও সাম্যের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে, ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষাগত ক্ষেত্রে সমন্বয় বজায় রাখা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ