সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১১:৫৪ এএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই নিয়ে সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে শেষবারের মতো ভাষণ দিয়ে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী ভাষণ দেন গুতেরেস। তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ […]

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ, জলবায়ু ও এআই নিয়ে সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে শেষবারের মতো ভাষণ দিয়ে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী ভাষণ দেন গুতেরেস। তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

যুদ্ধ বন্ধ ও মানবিক সহায়তার আহ্বান

ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন সংঘাতের কথা তুলে ধরেন গুতেরেস। তাঁর মতে, এসব সংঘাত দেখিয়ে দিচ্ছে শক্তি ও ক্ষমতা যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তখন তার মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি উত্তেজনা কমানো ও সংলাপের আহ্বান জানান। লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা পুরোপুরি ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা মানার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক কাঠামোর আহ্বান

বিদায়ী ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন গুতেরেস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির সমস্যা নিজে প্রযুক্তি নয়, বরং জবাবদিহিতাহীন প্রযুক্তি।

এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে তথ্য বিনিময়, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে সহযোগিতা এবং অভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক এআই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন।

জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই যন্ত্রের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও ‘কিলার রোবট’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

২০২৩ সালে জাতিসংঘ ৩৯ সদস্যের একটি এআই উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিল। একই বছর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে।

জলবায়ু সংকটেও সতর্কবার্তা

গুতেরেস জলবায়ু পরিবর্তনকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরেন। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দূষণকারীদের দায় বহনের কথাও বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে যে আর্থিক চাপে রয়েছে, তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার তুলনায় পুরোনো ক্ষমতার কাঠামোকে বেশি প্রতিফলিত করছে বলে মন্তব্য করেন গুতেরেস। তাঁর মতে, সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থাগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। বিশেষ করে স্থায়ী সদস্যদের কাঠামোয় আফ্রিকার কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টিকে ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।

গুতেরেস একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। জাতিসংঘের চলমান ‘UN80’ সংস্কার উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য করা ‘Pact for the Future’-এর কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

বিদায়ের আগে শান্তির প্রত্যয়

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার দিকে এগিয়ে গেলেও শান্তির পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিব না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি কাজ করে যাবেন।

গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতা ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। জাতিসংঘ সনদের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার এবং কোনো পরিস্থিতিতে হাল না ছাড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ