আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র বা কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি ইতোমধ্যে ‘বিশ্বকাপ জেল’ বা ‘বিশ্বকাপ কারাগার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন এবং সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ১০০ আসনের একটি মডুলার আটক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। […]
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র বা কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি ইতোমধ্যে ‘বিশ্বকাপ জেল’ বা ‘বিশ্বকাপ কারাগার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন এবং সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ১০০ আসনের একটি মডুলার আটক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পর্যটন সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী কানসাস সিটিতে আসতে পারেন।
বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম। সেখানে মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি নকআউট পর্বের খেলাও থাকবে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের মতো জনপ্রিয় দলগুলোর ম্যাচও সেখানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সময় জনসমাগম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ছোটখাটো অপরাধ, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা পৌর আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও বাড়তে পারে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত আটক সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে বলেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সহকারী সিটি ম্যানেজার জেফ মার্টিন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই কেন্দ্রটি চালু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্স বলেন, “বিশ্বকাপের মতো একটি বিশাল আন্তর্জাতিক আসরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকবে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় অতিরিক্ত আটক সুবিধা রাখা অস্বাভাবিক নয়।”
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কিছু মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসনবিষয়ক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর মাধ্যমে আটক কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হতে পারে।
যদিও সিটি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের আশঙ্কা সরাসরি নাকচ করেছে। তাদের দাবি, অস্থায়ী এই আটক কেন্দ্র মূলত ছোটখাটো অপরাধ, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা পৌর আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার করা হবে। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের সেখানে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
সূত্র: ইত্তেফাক