সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
৬:০৫ পিএম, ৩ আগস্ট ২০২৬

সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন ইনফান্তিনো, বাড়ছে ফিফার অভ্যন্তরীণ সংকট

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার আংশিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইনফান্তিনো সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের […]

সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন ইনফান্তিনো, বাড়ছে ফিফার অভ্যন্তরীণ সংকট

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার আংশিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ইনফান্তিনো সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফিফার ভেতরে ও বাইরে যখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন এই বৈঠককে অনেকেই তার নেতৃত্ব ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কেও দূরত্বের ইঙ্গিত

নিউইয়র্ক পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমানে ট্রাম্প ইনফান্তিনোর ফোন ধরতেও আগ্রহী নন। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নেতিবাচক সংবাদ ও সমালোচনার কারণে ইনফান্তিনো নিজেকে অনেকটা একঘরে মনে করছেন এবং এমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মিত্র খুঁজছেন, যিনি প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

২০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘিরেই বিতর্ক

বর্তমান সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক অধিকার এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল, যার প্রতিষ্ঠাতা জশ কুশনার, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এতে পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।

তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, অধিকাংশ সদস্য ফেডারেশন এবং ফুটবল প্রশাসকদের না জানিয়েই গোপনে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

ফিফার ভেতরেও বাড়ছে অসন্তোষ

বিতর্ক শুধু বাইরেই সীমাবদ্ধ নেই, ফিফার অভ্যন্তরেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামোর প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন। তার দাবি, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে হওয়া গোপন আলোচনার বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিফার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘প্রজেক্ট কিল দ্য মনস্টার’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন, যার উদ্দেশ্য ইনফান্তিনোকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া।

উয়েফার কঠোর অবস্থান

ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার দিক থেকে। গত ৩০ জুলাই উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না হলে তারা ফিফা বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করবেন।

এমন সিদ্ধান্ত ফিফার জন্য বড় ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। কারণ ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ স্পেন ও পর্তুগাল—দুটিই উয়েফার সদস্য। ফলে পরিস্থিতি জটিল হলে আয়োজক দেশের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

ব্লাটারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

২০১৬ সালে দুর্নীতিকাণ্ডের পর সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফিফার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সে সময় তিনি সংস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে প্রায় এক দশক পর তিনিই এখন নিজের নেতৃত্বের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক, ফিফার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং বিভিন্ন কনফেডারেশনের বিরোধিতার কারণে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তবে উল্লেখ্য, এসব তথ্যের বেশিরভাগই নিউইয়র্ক পোস্ট–এর প্রতিবেদনের দাবি। ফিফা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ