সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
৫:০৩ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার শঙ্কা, ২০২৬ সালে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩%

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ইরান যুদ্ধ, বৈশ্বিক সংঘাত, শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে জ্বালানির দাম পৌঁছাতে পারে গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। […]

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার শঙ্কা, ২০২৬ সালে পণ্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩%

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ইরান যুদ্ধ, বৈশ্বিক সংঘাত, শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে জ্বালানির দাম পৌঁছাতে পারে গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। খবর এএফপির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। দুই বছরে সম্মিলিতভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ শতাংশ। জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য, শস্য সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের প্রাপ্যতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘একই সময়ে পণ্যের বাজারে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের অভিঘাত আঘাত হানছে।’

তিনি বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বাণিজ্যব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও হুমকির মুখে পড়ছে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে কোথাও অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, কোথাও খরা আবার কোথাও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনকারীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি ও সারের ব্যয় বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়িয়ে খাদ্যের দাম আরও বাড়াতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ৩২ শতাংশ

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এ বছর ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৬৯ ডলার। তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২৭ সালে ব্রেন্টের গড় দাম কমে ৭৯ ডলারে নামতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারিজনিত মন্দার সময় বাদ দিলে চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে সরবরাহের সবচেয়ে বড় পতন।

অন্যদিকে, উচ্চমূল্য ও সরবরাহসংকটের কারণে চলতি বছর বিশ্বে তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২০ ও ১৯৮০ সালের পর তেলের চাহিদা কমার ক্ষেত্রে এটি হবে তৃতীয় বৃহত্তম পতন।

তবে উৎপাদনের তুলনায় ব্যবহার বেশি থাকায় তেলের মজুত থেকে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরবরাহসংকট তৈরি হলে বিশ্ববাজার আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে একাধিক অভিঘাত

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে হামলা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাব প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঝুঁকি একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের দাম মূল পূর্বাভাসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে, যা ২০২২ সালের মূল্যস্তরকেও ছাড়িয়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতি বিশেষ করে দরিদ্র ও খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। খাদ্যের দাম বেড়ে গেলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পুষ্টিকর খাবার কেনার সক্ষমতাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দরিদ্র দেশগুলোর সহায়তায় গুরুত্ব

বিশ্বব্যাংক বলেছে, মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ঋণের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা করা জরুরি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, উচ্চমূল্যের প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যমান অর্থায়নব্যবস্থার মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার আগাম নির্ধারিত অর্থায়ন। এসব অর্থ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতের তারল্য সহায়তায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, খাদ্য, জ্বালানি ও সামগ্রিক পণ্যমূল্যের বর্তমান পূর্বাভাস গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বৈশ্বিক সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: এএফপি ও বিশ্বব্যাংক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ