ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ দাবি করা হয়েছে। তবে অর্থ স্থানান্তর কিংবা প্রস্তাবটির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন […]
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ দাবি করা হয়েছে। তবে অর্থ স্থানান্তর কিংবা প্রস্তাবটির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আকস্মিক তেহরান সফরের সময় হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইরানের মাধ্যমে হুথিদের কাছে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে পৌঁছান, তাতেই অর্থ বহন করা হয়েছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের পক্ষে অংশ নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। বৈঠকে ইরান সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরান সফর নিয়ে সৌদির বক্তব্য
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরের উদ্দেশ্য ছিল চলমান সংকটের পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান উৎসাহিত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন জানানো।
তবে বিবৃতিতে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব কিংবা অর্থ বহন করে নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। রিয়াদের বিমানবন্দর টানা কয়েক দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করতে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পুরোনো সমঝোতা নিয়ে বিরোধ
ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সৌদি কর্মকর্তা জানান, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের অন্যতম কারণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সমঝোতায় হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে সৌদি আরবের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি—এমন অভিযোগ তুলে হুথিরা আবার হামলা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে ইরানের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে সৌদি আরবের অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ সামরিক চাপের মুখে নতুন যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া এবং হুথিদের অর্থ দেওয়ার বিরোধী। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে দখল করা ভূখণ্ড ফিরিয়ে দেওয়ার আগে হুথিদের অর্থ দেওয়ার বিষয়েও সৌদি আরবের আপত্তি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান এই বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইছে বলে ইসরায়েল হায়োমের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হুথিদের হামলা বন্ধে সৌদি আরবের ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবের খবরটি এখনো মূলত অজ্ঞাতনামা কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর। অর্থ স্থানান্তর কিংবা চুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় দাবিটিকে এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সূত্র: ইসরায়েল হায়োম, এনডিটিভি