কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে পরিবেশ দূষণ, বিপুল বিদ্যুৎ খরচ ও চাকরি হারানোর আশঙ্কাসহ নানা অভিযোগের কারণে প্রযুক্তিটির নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের বড় সাফল্য আসতে এখনও সময় লাগবে এবং এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যয়ের মতো নানা ঝুঁকিও রয়েছে। […]
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে পরিবেশ দূষণ, বিপুল বিদ্যুৎ খরচ ও চাকরি হারানোর আশঙ্কাসহ নানা অভিযোগের কারণে প্রযুক্তিটির নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের বড় সাফল্য আসতে এখনও সময় লাগবে এবং এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও ব্যয়ের মতো নানা ঝুঁকিও রয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আইপিওর আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির সিইও দারিও আমোদেই জানিয়েছেন, তারা জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছেন।
শুধু অ্যানথ্রোপিক নয়, এআই ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে অন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও সক্রিয় হচ্ছে। এনভিডিয়া ও এলি লিলি সানফ্রান্সিসকোতে ১০০ কোটি ডলারের একটি ড্রাগ ডিসকভারি ল্যাব তৈরি করছে। অন্যদিকে গুগলের এআই স্পিন-অফ আইসোমর্ফিক ল্যাবস এআই ও ক্লিনিক্যাল দক্ষতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগে ২১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করছে।
তবে এআই ব্যবহার করে ওষুধ আবিষ্কার বা চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ডেটা সেন্টারের বিস্তার, বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের অগ্রগতি তা কতটা কমাতে পারবে, সে প্রশ্নও রয়েছে।
এআই ওষুধ আবিষ্কারের প্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাকে আরও নির্ভুল করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত খরচ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। এর বাইরে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির মতো নিরাপত্তাঝুঁকিও রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যানথ্রোপিক তাদের নতুন ক্লড ফেবল ৫ মডেলে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ডিজিটাল হেলথ এমঅ্যান্ডএ ফার্ম নেলসন অ্যাডভাইজার্সের অংশীদার লয়েড প্রাইস বলেন, আইপিওর প্রস্তুতি নেওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রবেশ করা যেমন নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে, তেমনি জনমত নিজেদের পক্ষে আনারও একটি উপায় হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআই বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারলে পরিবেশ বা নিরাপত্তার ঝুঁকির বদলে এটি মানবসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণনীতি, জনস্বার্থের তুলনায় এআই কোম্পানিগুলো মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে—এমন আশঙ্কা এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এই উদ্যোগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। লয়েড প্রাইসের মতে, চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই বাস্তবে কতটা কার্যকর অবদান রাখতে পারছে, সেটি প্রমাণের ওপরই নির্ভর করবে মানুষ এআইয়ের বিশাল অবকাঠামো ও বিনিয়োগকে শেষ পর্যন্ত কতটা গ্রহণ করবে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস