সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
১:২৫ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তিপত্র

মৎস্য অধিদপ্তরের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ মাছ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন দেশের ইলিশ আমদানিকারকরা। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে অনাপত্তিপত্র বাতিলের বিষয়টি […]

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তিপত্র

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মৎস্য অধিদপ্তরের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ মাছ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন দেশের ইলিশ আমদানিকারকরা। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে অনাপত্তিপত্র বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিতে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। ফলে ভারত থেকে ইলিশ আনার পুরো প্রক্রিয়াই হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।

বেনাপোল বন্দর ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অনাপত্তিপত্র বাতিলের বিষয়ে তারা মৎস্য অধিদপ্তরের চিঠি পেয়েছেন। হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে কী কারণে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কয়েকটি কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাদের মতে, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা ঠেকানো, কম মূল্য দেখিয়ে পণ্য আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা রোধ এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকতে পারে।

আমদানিকারক জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সীমান্তের ওপারে গুদামে কিনে রাখা ইলিশ এখন কম দামে সেখানেই বিক্রি করে দিতে হতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে ইলিশ আমদানির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে, যার অনেকটাই ফেরত পাওয়া যায় না। ফলে অনাপত্তিপত্র বাতিলের কারণে এসব খরচের অর্থও লোকসানে পরিণত হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টিন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলমও অনাপত্তিপত্র বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বাতিলের আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন এবং অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এসব ইলিশের আনুমানিক মূল্য ছিল ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

দুই মাসে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানির পর হঠাৎ করে সবগুলো অনাপত্তিপত্র বাতিল হওয়ায় আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইতোমধ্যে কেনা মাছ, সীমান্তের ওপারে সংরক্ষিত ইলিশ এবং আমদানির জন্য ব্যয় করা অর্থ নিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশের আমদানি আপাতত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। তবে কতদিন এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে বা পরবর্তী সময়ে আবার অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ