রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামের কারণে চার বছর পর গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ভারত। সোমবার দেশটির সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গমের রপ্তানি নীতির অবস্থান ‘নিষিদ্ধ’ থেকে পরিবর্তন করে ‘মুক্ত’ বা ‘ফ্রি’ শ্রেণিতে নিয়ে […]
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামের কারণে চার বছর পর গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ভারত। সোমবার দেশটির সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গমের রপ্তানি নীতির অবস্থান ‘নিষিদ্ধ’ থেকে পরিবর্তন করে ‘মুক্ত’ বা ‘ফ্রি’ শ্রেণিতে নিয়ে গেছে। এর ফলে এখন থেকে বিভিন্ন ধরনের গমের পাশাপাশি ডুরাম গম, গমের আটা, ময়দা, সুজি এবং সম্পূর্ণ গমের আটা রপ্তানিতেও আগের নিষেধাজ্ঞা আর থাকছে না।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক ভারত ২০২২ সালের মে মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
এরপর চলতি বছরের শুরুতে নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা শিথিলতা আনা হয়। তখন লাইসেন্সের মাধ্যমে ৫০ লাখ টন গম এবং ১০ লাখ টন গমজাত পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মোট ৬০ লাখ টন রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টন পণ্য।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই কোটা-ভিত্তিক রপ্তানি ব্যবস্থারও অবসান ঘটল। এখন থেকে নির্দিষ্ট কোটা বা বিশেষ অনুমতির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকেরা নতুন নীতির আওতায় গম ও গমজাত পণ্য বিদেশে পাঠাতে পারবেন।
ভারতের খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়া জানিয়েছেন, দেশের কৃষকদের উৎপাদিত গমের ভালো দাম নিশ্চিত করতেই সরকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম তুলনামূলক কম। এতে কৃষকেরা প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার মনে করছে, রপ্তানির সুযোগ বাড়লে বাজারে গমের চাহিদা বাড়বে এবং এর ফলে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এতে কৃষকেরাও উৎপাদিত গমের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সঞ্জীব চোপড়া বলেন, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বাড়তে পারে। এতে কৃষকেরা আগামী রবি মৌসুমে আরও ভালো ফলনের আশায় গম বপনে উৎসাহিত হবেন এবং উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে রপ্তানি বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত গম সরকারের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ার কারণে দেশের ভোক্তাদের জন্য গমের দাম হঠাৎ করে বড় ধরনের বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতে ২০২৫-২৬ কৃষিবর্ষে গম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। সরকারি হিসাবে ওই সময়ে দেশটিতে ১২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছে।
এর আগের কৃষিবর্ষে গম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৬ লাখ ৯০ হাজার টন।
রেকর্ড উৎপাদনের পাশাপাশি দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আন্তর্জাতিক বাজারে গম রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছে ভারতীয় সরকার।
সরকারের ধারণা, রপ্তানির সুযোগ বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। এর সুফল সরাসরি কৃষকেরা পাবেন এবং একই সঙ্গে আগামী মৌসুমে গম উৎপাদনে উৎসাহ বাড়বে।
চার বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের গম রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাজারে সীমিত ছিল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের ফলে দেশটি ফের বৈশ্বিক গমের বাজারে বড় পরিসরে ফিরে আসার সুযোগ পেল।