Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৫:৩১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভোটিং মেশিনে পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনকে (ইইসি) পাশ কাটিয়ে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোটিং মেশিনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার আগে কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সূত্রগুলোর দাবি, ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত […]

ভোটিং মেশিনে পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনকে (ইইসি) পাশ কাটিয়ে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোটিং মেশিনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার আগে কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

সূত্রগুলোর দাবি, ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ধীরগতিতে অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। পাশাপাশি ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধনের জাতীয় ফরমে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা এবং প্রশাসনের অন্যান্য নির্বাচনি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের বিষয়েও চাপ ছিল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচন কমিশনের দুই ডেমোক্র্যাট কমিশনারকে বরখাস্ত করেন। একই সময়ে একমাত্র রিপাবলিকান কমিশনার পদত্যাগ করেন। এর আগে এপ্রিলে কমিশনের আরেক সদস্যও দায়িত্ব ছাড়েন। ফলে বর্তমানে কমিশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কোরাম নেই এবং নতুন কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, এটি ভোট গ্রহণের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট চেষ্টা। তার ভাষায়, স্বাধীন নির্বাচন সংস্থাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।

তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে প্রশাসন জানায়, নির্বাচন জালিয়াতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে শুরু থেকেই বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে এবং নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক দপ্তর একটি প্রস্তাব দেয়, যাতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে একটি বিশেষ ফেডারেল টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই টাস্কফোর্স নির্বাচন কমিশনকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যকে ভোটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা দুর্বলতা দূর করতে বাধ্য করতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত ওই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার রাজনৈতিক মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প এখনও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তার কাছ থেকে চুরি করা হয়েছিল বলে দাবি করে আসছেন, যদিও সেই দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটিং প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এবং যেকোনো নীতিগত পরিবর্তনের আগে বিস্তৃত কারিগরি পর্যালোচনা ও জনমত গ্রহণের প্রয়োজন হয়। এ কারণেই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে নির্বাচন কমিশন ভোটিং অবকাঠামো উন্নয়নে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান বিতরণ করেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ