Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
৪:৪৪ পিএম, ২০ জুন ২০২৬

মহাশূন্যে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল পাঠিয়ে নতুন বার্তা দিল নাসা

ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ফুটবল মহাশূন্যে পাঠিয়ে নতুন এক বার্তা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে খেলাধুলার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাসার মতে, মহাকাশ অনুসন্ধান থেকে অর্জিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, ক্রীড়াবিজ্ঞান, […]

মহাশূন্যে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল পাঠিয়ে নতুন বার্তা দিল নাসা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ফুটবল মহাশূন্যে পাঠিয়ে নতুন এক বার্তা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে খেলাধুলার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাসার মতে, মহাকাশ অনুসন্ধান থেকে অর্জিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, ক্রীড়াবিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বলকে মহাশূন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে নাসা। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় সংস্থাটি জানায়, তারা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চায়, যাতে তরুণরা উপলব্ধি করতে পারে যে মহাকাশ অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও প্রযুক্তি কীভাবে ক্রীড়াবিজ্ঞানসহ মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের পথ তৈরি করছে।

নাসা জানিয়েছে, এই উদ্যোগ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পরিচালিত তাদের বৃহত্তর সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ফিফা ফ্যান ফেস্টিভালে নাসার একটি বিশেষ প্রদর্শনীও চলছে।

এই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের সামনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ পরিচালিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মহাকাশচারীদের জীবনযাপন এবং চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে পরিচালিত নাসার উচ্চাভিলাষী আর্টেমিস কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। মহাকাশ প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোও এই প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য।

ফুটবলের সঙ্গে নাসার সম্পর্ক শুধু প্রতীকী বা প্রচারণামূলক নয় বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল ক্রীড়াবিজ্ঞানেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বিশেষ করে ফুটবলের বায়ুগতিবিদ্যা, বলের গতিপথ, ঘূর্ণন এবং স্থিতিশীলতা নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় মহাকাশে সংগৃহীত তথ্য কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাশূন্যের বিশেষ পরিবেশে পরিচালিত গবেষণা থেকে এমন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা আধুনিক ফুটবল প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেন, ফুটবলের ভেতরে ভরের বণ্টন বলের গতি, ঘূর্ণন এবং স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে। গবেষণাটির মাধ্যমে বলের ভেতরে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপাদানের কার্যকারিতা আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের গবেষণা আধুনিক ফুটবলে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সেন্সর প্রযুক্তি এবং ম্যাচ চলাকালে বলের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে মহাকাশ গবেষণার অর্জন এখন মাঠের খেলাতেও বাস্তব প্রভাব ফেলছে।

নাসা মনে করে, বিজ্ঞান ও খেলাধুলা একে অপরের পরিপূরক। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরকে ঘিরে মহাকাশ গবেষণার এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে চায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ