প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে ফিরতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের ঘরোয়া ফুটবল। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, আর্থিক সংকট এবং খেলোয়াড় সংকটের মধ্যেও আগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-বিরেহ শহরের থাকাফি আল-বিরেহ স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে ইতোমধ্যেই অনুশীলন শুরু করেছেন ফুটবলাররা। দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের হারানো ছন্দ […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে ফিরতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের ঘরোয়া ফুটবল। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, আর্থিক সংকট এবং খেলোয়াড় সংকটের মধ্যেও আগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-বিরেহ শহরের থাকাফি আল-বিরেহ স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে ইতোমধ্যেই অনুশীলন শুরু করেছেন ফুটবলাররা। দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে কোচদের তত্ত্বাবধানে কঠোর অনুশীলন করছেন তারা।
পিএফএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর, গাজা ভূখণ্ড এবং প্রবাসী ফিলিস্তিনি কমিউনিটির অংশগ্রহণে আবারও ফুটবল কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সব ধরনের অফিসিয়াল ফুটবল প্রতিযোগিতা স্থগিত ছিল।
তবে ফুটবল ফেরার এই ঘোষণা নতুন আশার জন্ম দিলেও বাস্তবতা এখনও কঠিন। পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলো চলাচলে কড়াকড়ি, চেকপয়েন্ট এবং আর্থিক সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে গাজা ভূখণ্ডের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। যুদ্ধের সময় বহু স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, নিহত হয়েছেন অসংখ্য খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়া সংগঠক।
থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের কোচ ওমর বারগুতি বলেন, প্রায় তিন বছর প্রতিযোগিতা না থাকায় খেলোয়াড়দের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তার ভাষায়, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় ক্লাবগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত ছিল।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল যে অবস্থানে পৌঁছেছিল, সেখানে আবার ফিরতে সময় লাগবে। বিশেষ করে যেসব খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রতিযোগিতার বাইরে কাটিয়েছেন, তাদের সেই ক্ষতি সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।
বারগুতি জানান, সেপ্টেম্বরে মূল লিগ শুরুর আগে বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন খেলা বন্ধ থাকায় ক্লাবগুলোর আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। থাকাফি আল-বিরেহ ক্লাবের স্পোর্টস সুপারভাইজার মোহাম্মদ সদর বলেন, আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক খেলোয়াড় জীবিকার জন্য অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতাও অনেক ক্লাবের নেই। তাই আপাতত পুরোনো খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ম্যাচ প্রস্তুতির ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিন যুব জাতীয় দলের ফুটবলার বাসেল হারবাউই বলেন, প্রতিযোগিতা বন্ধ থাকায় তরুণ ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। বিদেশে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে খেলার স্বপ্নও এই দীর্ঘ বিরতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আবার প্রতিযোগিতা শুরু হলে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
পিএফএর মুখপাত্র দিমা ইউসেফ জানান, প্রথম পর্যায়ে কোনো অবনমন বা পদোন্নতি ছাড়াই একটি অন্তর্বর্তী প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। পরে পূর্ণাঙ্গ লিগের কাঠামো ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, গত তিন বছরে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গন ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্রীড়া সম্প্রদায়ের এক হাজারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন এবং অধিকাংশ ক্রীড়া স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। আগামী বছর পেশাদার লিগের অষ্টম আসর শুরুর আগে অবকাঠামো পুনর্গঠন ও ক্লাবগুলোকে সহায়তা দেওয়া জরুরি।
পিএফএর মতে, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফুটবল আবার মাঠে ফিরছে—এটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আশা, স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি