ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত একটি শাহেদ ড্রোনের গায়ে স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামালের একটি ছবি দেখা যায়। ছবিতে ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ড্রোনে এই ছবি কেন ব্যবহার […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত একটি শাহেদ ড্রোনের গায়ে স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামালের একটি ছবি দেখা যায়। ছবিতে ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ড্রোনে এই ছবি কেন ব্যবহার করা হয়েছে বা এর উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রেস টিভির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে ড্রোনটির সামনের অংশে ইয়ামালের ছবি সংযুক্ত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওতে ড্রোনটির লক্ষ্যবস্তু, হামলার স্থান বা অভিযানের সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সংবাদ সংস্থাও ভিডিওটির প্রতীকী বার্তা বা উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে ব্যবহৃত ছবিটি চলতি বছরের মে মাসে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদ্যাপনের সময় তোলা। সে সময় লামিন ইয়ামালকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায় এবং ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনারও জন্ম দেয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইয়ামালের ওই অবস্থানের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইয়ামালের নিজের মত প্রকাশের অধিকারকে সমর্থন জানান। গাজা যুদ্ধের পর স্পেন ও ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষ প্রায়ই প্রতীকী ছবি, বার্তা বা প্রচারমূলক উপকরণ ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তবে এই নির্দিষ্ট ভিডিওতে লামিন ইয়ামালের ছবি ব্যবহারের উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো সামরিক সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শাহেদ ড্রোন ব্যবহারের একাধিক ভিডিও ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর অবস্থান, সময় ও সংশ্লিষ্ট সামরিক দাবির অনেকগুলোই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রচারিত এ ধরনের ভিডিও বা ছবি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উৎস, প্রেক্ষাপট এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।