সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
১:৩১ পিএম, ১৮ জুন ২০২৬

মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় আইনি অভিযান শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) মার্কিন নাগরিকদের একটি অংশকে। জালিয়াতি, তথ্য গোপন বা নাগরিকত্ব অর্জনের সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিল বা ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ প্রক্রিয়াকে […]

মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় আইনি অভিযান শুরু

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) মার্কিন নাগরিকদের একটি অংশকে। জালিয়াতি, তথ্য গোপন বা নাগরিকত্ব অর্জনের সময় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিল বা ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করছে। বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আরও শতাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, যারা প্রতারণা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১৭ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, প্রতারণা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার এবং এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বাড়াতে অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগ ও বিভিন্ন ইউনিট থেকে জনবল স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। প্রশাসনের লক্ষ্য চলতি বছরের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা আদালতে নিয়ে যাওয়া।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, অতীতে সাধারণত যুদ্ধাপরাধ, সন্ত্রাসবাদ বা গুরুতর জালিয়াতির মতো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত পরিসরে এই আইন প্রয়োগের চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং এটি কেবল ফেডারেল আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। সরকারকে আদালতে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতারণা, তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। ফলে প্রশাসনের পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল হলে তিনি তার আগের অভিবাসন অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বহিষ্কারের মুখোমুখিও হতে পারেন। তবে এই বিধান কেবল বিদেশে জন্ম নিয়ে পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ আইন কার্যকর নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের দাবি, এটি নাগরিকত্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে ন্যাচারালাইজড নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ