Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

কমিউনিটি
৮:০৪ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

মালয়েশিয়ায় প্রতারণামূলক অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ: সাইবার নিরাপত্তায় নতুন দিকনির্দেশনা

মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (MCMC) ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩৪৮টি প্রতারণামূলক অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ করেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয় যে, অনুরোধের প্রায় ৯৫ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তায় গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের প্রতিফলন। সাইবারবুলিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ একই সময়ে, সাইবারবুলিং বিষয়ক […]

মালয়েশিয়ায় প্রতারণামূলক অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ: সাইবার নিরাপত্তায় নতুন দিকনির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (MCMC) ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩৪৮টি প্রতারণামূলক অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ করেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয় যে, অনুরোধের প্রায় ৯৫ শতাংশ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তায় গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের প্রতিফলন।

সাইবারবুলিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ

একই সময়ে, সাইবারবুলিং বিষয়ক ৫০,১৬০টি কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ করা হয়, যেখানে ৩৮,৪৭০টি সফলভাবে সরানো হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, সরকারের নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো সাইবারবুলিং মোকাবিলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল সংসদে জানান, এসব অপসারণ কার্যক্রম মূলত জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কমিউনিটি গাইডলাইন ও স্থানীয় আইন মেনে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনলাইন প্রতারণা ও সাইবারবুলিং শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে।

নতুন নিয়মাবলী ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলককরণ

২০২৫ সাল থেকে, ইন্টারনেট মেসেজিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালনাকারীদের জন্য ‘অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (ক্লাস)’ নামে একটি লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি ১৯৯৮ সালের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত হবে। এর ফলে, যোগ্য সেবা প্রদানকারীরা নিয়মকানুন মেনে কাজ করবে এবং অনলাইন ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর, এমসিএমসি ‘ইন্টারনেট মেসেজিং ও সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য আচরণবিধি (Code of Practice)’ চালু করেছে। এই আচরণবিধি অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা ভার্চুয়াল স্পেসকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৫’ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা

দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও মজবুত করতে সরকার ‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৫’ কার্যকর করেছে। এই আইনের মাধ্যমে অ্যাপ প্রোভাইডার, কনটেন্ট প্রোভাইডার এবং নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডারদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অনলাইন নিরাপত্তার জোরদারকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল আরও জানান, এমসিএমসি বর্তমানে অ্যাক্ট ৮৬৬-এর অধীনে অনলাইন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রণয়ন করছে, যা ভবিষ্যতে সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনগণের ভূমিকা

ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ‘সেইফ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইন’ প্রচার সম্প্রসারণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে এবং অনলাইন নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

প্রভাব ও পাঠকের জন্য গুরুত্ব

এই পদক্ষেপগুলো মালয়েশিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইন প্রতারণা এবং সাইবারবুলিং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে এবং ব্যবহারকারীদের মানসিক সুস্থতা বজায় থাকবে। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে অনলাইন পরিবেশকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যে, সাইবার সুরক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি ব্যবহারকারীর সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারই একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গঠনে সহায়ক।

Source: মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (MCMC), সংসদ সেশনের তথ্য (১৪ অক্টোবর ২০২৫)

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ